ফুলবাড়ীয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ভীমে ধস, রক্ষা পেল ২৫ শিশু শিক্ষার্থী

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৭, ০১:৩২

ভীমে ফাটল ছিল অনেক আগেই। খসে পড়ছে পলেস্তরা। জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস পরিচালনা করা জীবনের হুমকি। ভবনটির দুরবস্থার কথা লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বুধবার বিদ্যালয় ছুটির ১০ মিনিটের মাথায় ধসে পড়েছে ভবনের ভীম। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ২৫ শিশু শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর পশ্চিমপাড়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩শ ১৪ জন। একমাত্র বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৯৩ সালে। এরই মধ্যে বিদ্যালয় ভবনের অনেক স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। চু্ঁইয়ে ভিতরে পড়ে পানি। খসে পড়ছে পলেস্তরা। ভবনের ভিমেও দেখা দিয়েছে ফাটল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জরাজীর্ণ ভবনের ক্লাস পরিচালনা করা মারাত্মক হুমকির বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। জরাজীর্ণ একমাত্র বিদ্যালয় ভবনেই চলছিল ক্লাস।

জরাজীর্ণ ভবনে বুধবার প্রতিদিনের ন্যায় শিশু শ্রেণির ক্লাস শেষে ১১টা ১৫ মিনিটে ছুটি দেয় শিক্ষক। ক্লাসে উপস্থিত ছিল ২৫ জনের মতো শিশু শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার ১০ মিনিট পরেই শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীর কক্ষের ভীম ধসে পড়ে বিকট শব্দ হয়। শিক্ষক শিক্ষার্থী বিকট শব্দে বিদ্যালয় ভবন ছেড়ে মাঠে আশ্রয় নেয়। অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েন শিক্ষকরা। তোপের মুখে বিদ্যালয় ছুটি দিতে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, জরাজীর্ণ ভবনের কথা লিখিতভাবে জাননোর পরও আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অল্পের জন্য ২৫ শিক্ষার্থী বেঁচে যাওয়ার অভিভাবকরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হলে বিদ্যালয় ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার জীবন আরা প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভীমে ধসের খবর তিনি পেয়েছেন। খোঁজ নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।

ইত্তেফাক/নূহু