সিআইডি পুলিশের এসআই আজিজুল হকের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে যশোর শহরে বিক্ষোভ করেছে 'নিহত' স্ত্রীর স্বজনরা। শুক্রবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বিক্ষোভ মিছিলে 'স্ত্রী হত্যার' অভিযোগ এনে আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ফাঁসির দাবি জানান তারা।
এদিকে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে এসআই আজিজুল হককে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসা করেছে। ঢাকা সিআইডিতে কর্মরত আজিজুল সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকার সরুলিয়া গ্রামের আনারুল হকের ছেলে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কেএম আজমল হুদা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিজুল হকের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এজন্য রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়েছিল। জিজ্ঞাসার সময় আজিজুল পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। দুপুরে বাড়িতে ফিরে জানালা দিয়ে ঘরে স্ত্রীকে গলায় দেওয়া দড়িতে ঝুলতে দেখেন। এরপর জানালা ভেঙে তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন আজিজুল। আজিজুল দাবি করেছেন, পারিবারিক কলহের সূত্র ধরে তার স্ত্রী মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজিজুলকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার যশোরে সিআইডি পুলিশের এসআই আজিজুল হক সবুজের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন পারুলের (৩০) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রাম থেকে নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে মরিয়মের লাশটি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন আজিজুল। আজিজুল দাবি করেন, তার স্ত্রী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পারিবারিক কলহের জের ধরে মরিয়মকে হত্যার পর লাশ ঘরে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন বলে নিহতের ভাই জিয়াউর রহমান দাবি করেন। পারুল যশোর সদর উপজেলার চৌঘাটা গ্রামের আজিজুর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় পারুলের পিতা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/জামান
