ভবন নির্মাণে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৭, ১৩:৫৮
 
বান্দরবান সরকারী মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনের ৩য় তলার ড্রপ ওয়াল নির্মাণ কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগে ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ড্রপ ওয়াল নির্মাণে রডের ফাঁকে ফাঁকে বাঁশের কঞ্চি বাধলে কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রীগণ নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেন।
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট ৯১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে মেসার্স ইউএন এন্টারপ্রাইজকে কলেজের একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের কার্যাদেশ প্রদান করেন। বান্দরবান সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ বড়ুয়া জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন ভবনের ৩য় তলার ড্রপ ওয়াল নির্মাণ কাজে রডের ফাঁকে ফাঁকে বাঁশ বাধা হয়।
 
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউএন এন্টারপ্রাইজের পক্ষে তাপস কান্তি জানিয়েছেন, গত ৪ মাস ধরে নির্মাণ কাজ চলছে। ভবনের ভিতরে বৃষ্টি না ঢোকার জন্য ড্রপ ওয়াল নির্মাণ করা হয়। শিডিউল মোতাবেক ড্রপ ওয়ালের রড দেওয়া হয়েছে। বাঁধায়কৃত রডের ফাঁকে ফাঁকে দূরত্ব কমানোর জন্য একটি করে বাঁশের কঞ্চি মিস্ত্রি বেধেছেন। মূলত মসল্লা সহজেই ধরে রাখার জন্য মিস্ত্রি বাঁশের কঞ্চি বেঁধেছেন তবে শিডিউল মোতাবেক রড বাঁধাই করা হয়েছে। রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নহে।
 
উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর হোসেন জানিয়েছেন, রডগুলো সোজা করার জন্য বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁশের কঞ্চি দেওয়া ঠিক হয় নি। সরকারী কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের কোন সুযোগ নাই। বাঁশের কঞ্চি বাঁধার সময় আমি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলাম। বান্দরবান এসে নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে বাঁশের কঞ্চি খুলে ফেলার জন্য বলেছি।
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, নির্মাণ শ্রমিকদের প্রচলিত ধারণা জনিত সাধারণ ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ শ্রমিকরা রড লাগানো এবং বাঁধাই কাজ সম্পন্ন করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী তা পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই ঢালাই কাজ করা হয়। ভুল করার বিষয়টি বুঝতে পেরে শ্রমিকরা কঞ্চিগুলো খুলে ফেলেছে।
 
ইত্তেফাক/এমআর