বেনাপোল কাস্টমসে ব্যাগ তল্লাশির নামে ভারত থেকে ফিরে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চেকিংয়ের নামে হয়রানীসহ মালামাল আটক করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছেন কর্তকর্তারা। একজন পাসপোর্ট যাত্রী কত টাকার মালামাল আনলে তাকে ব্যাগেজ রুলের আওতায় ট্যাক্স দিতে হবে না তা বলতে পারেন না এখানকার দায়িত্বরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা। এখানে দায়িত্বরতদের পোশাকের সঙ্গে বুকে নেম প্লেট থাকার কথা থাকলেও কারো নেম প্লেট থাকে না। কোনো যাত্রী যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে না পারে সে জন্য তারা নেম প্লেট খুলে রাখেন।
শনিবার দুপুরে ভারত থেকে ফিরে আসেন একটি পরিবারের ১০ সদস্য। কাস্টমসে তাদের ব্যাগেজ আটকে সিপাহী জীবন ও স্বপন টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ওই পরিবারের একজন সদস্য জানান, কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে আমাদের ব্যাগেজগুলো স্ক্যানিং করার পর আবার চেক করা হয়। চেক করার নামে টাকা আদায় করা হয়। এ সময় এখানকার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজুর রহমান।
কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্র থেকে যাত্রীদের কয়েক দফা চেকিংয়ের পর আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে আসলেই আবার বিজিবির চেকিং। এখানেও চলছে কাস্টমসের মত একই নিয়ম। কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করার ঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয় ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের ভারত থেকে মালামাল নিয়ে আসা। চলে সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। প্রায় ৩০০ ভারত-বাংলাদেশি নারী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা শাড়ি, থ্রিপিস, জুতা এবং ইমিটেশান গহনা নিয়ে আসে। কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রের দায়িত্বরত সদস্যরা তাদের ব্যাগেজ প্রতি টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ সব ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রশাসনের নামে টাকা আদায় করে থাকে কয়েকজন দালাল। প্রতিদিন এভাবে মালামাল আসাতে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।
৪৯ বিজিবির কমান্ডার লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আমাদের কড়া নজরদারি চলছে। খুব শিগগিরেই এটি বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউাসের কমিশনার শওকাত হোসেন জানান, ব্যাগেজ রুলের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা যাতে ভারত থেকে ব্যাগেজ রুলের অতিরিক্ত মালামাল আনতে না পারে সে ব্যাপারে দায়িত্বরতদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
