নানা সমস্যায় জর্জরিত বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৭, ০৩:১২

বাকেরগঞ্জ উপজেলা সদরের একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত, রোগীরা চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত। প্রায় পাঁচ লাখ লোক অধ্যুষিত বাকেরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বিভিন্ন আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ডাক্তাররা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থাকায় রোগীরা সঠিকভাবে চিকিত্সা সেবা পাচ্ছে না। হাসপাতালে রোগী এলেই তারা চিকিত্সা সেবা না দিয়ে ওই সমস্ত রোগীদের বাইরের ক্লিনিকগুলোতে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। গরীব রোগীরা অর্থের সংকটে চিকিত্সা করতে না পেরে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নার্স এবং আয়া রোগীদের ঠিকমত ওষুধ ও খাবার সরবরাহ করে না এবং হাসপাতালের ভিতরে ময়লাও পরিষ্কার করে না। এমনকি ঝাড়ু না দেওয়ায় রোগীদের সাথে ভালো মানুষরা অসুস্থ হয়ে যায়। রোগীরা সরকারি ওষুধ না পেয়ে বাইরের দোকান থেকে চড়া দামে কিনছে। হাসপাতালে প্রতিদিন দুই’শ থেকে তিন শতাধিক রোগী আসে চিকিত্সা সেবা নিতে এবং গড়ে পাঁচ থেকে ১০ জন বা তার বেশি রোগী ভর্তি হয় হাসপাতালে।

জানা যায়, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন, বিকল প্যাথলজি, আট্রাসোনোগ্রাফ, ই-সিজি, গাইনি, সার্জারিসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা। ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ঐ সকল মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে নামে মাত্র কয়েকজন ডাক্তার থাকলেও ঠিকমত সেবা দিচ্ছে না তারা। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারদের সকাল আটটার মধ্যে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ইবিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ফিঙ্গারিং করে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও, তা তারা মানছে না। তারা সকাল ১০টা পর্যন্ত তাদের নিজ নিজ বাসায় বসে ভিজিট নিয়ে চিকিত্সা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সাপ্তাহের বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকেন। মাঝে মধ্যে এসে ১/২ দিন অফিস করে ও ছুটি এবং ট্রেনিংয়ের অজুহাত দেখিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। এই অবস্থায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সমস্যা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. রাজিব হাসান জানান, স্যার ছুটিতে আছেন, নানা বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট থাকায় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে নতুন ৫০ শয্যার ভবন দিলেও বাকেরগঞ্জে ১৯ শয্যার ভবন নির্মাণ হয়, তা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। পুরাতন ভবনটি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট থাকলেও হাসপাতালের রোগীদের বেডসিট এবং ভবনের করুণ অবস্থা।

একটি জেনারেটর ও অ্যাম্বুলেন্স লক্কড়-ঝক্কড় হওয়ায় তাও ঠিকমত চলে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপযুক্ত ডাক্তার না থাকায় অধিকাংশ রোগীরা বরিশালে গিয়ে চিকিত্সা নেয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/নূহু