কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে বসতবাড়ি গড়ে উঠছে। গত ৬ মাসে ৫ শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠেছে পাহাড়ের কোলে। পাহাড় দখলে পরিবেশ নেতাসহ রাজনৈতিক নেতাদের নাম রয়েছে। উচ্ছেদ করার পর পুনরায় এসব বসতি গড়ে ওঠে। ফলে এতে একদিকে সরকারি পাহাড় বেদখল হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি গড়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটন শহরের কক্সবাজারে অর্ধশতাধিক পাহাড় রয়েছে। এসব পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বসতি গড়ে ওঠে। এভাবে ৩০ হাজারের বেশি পরিবার এখন পাহাড়ের মালিক বনে গেছে। গত ৬ মাসে পর্যটন হোটেল-মোটেল জোনের পাশের ৩টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে ৫ শতাধিক বসতিবাড়ি। আর গত ১০ দিনে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলেছে ২০টির বেশি। নতুন এসব বসতি গড়ে তোলার তালিকায় পরিবেশ নেতা, রাজনৈতিক নেতাদের নামও রয়েছে।
কক্সবাজার সৈকত পাড়াস্থ পাহাড়িকা কটেজের পাশে পরিবেশ বান্ধব উঁচু পাহাড় কেটে সেই এই বসতি সৃষ্টি করে। এভাবে আশেপাশের কয়েকটি পাহাড়ে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে পরিবেশ বান্ধব উঁচু পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। প্রভাবশালীরা সাংবাদিক, রাজনৈতক নেতা ও পরিবেশের নেতা বনে পাহাড় কেটে বিভিন্ন স্থানে দেদারচ্ছে প্লটও বিক্রি করেছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সৈকতের এই পাহাড়ে ৪ বার অভিযান করে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করা হয়। এরপরও অবৈধ দখলদারদের থাবা থেকে এই পাহাড় রক্ষা করা যাচ্ছেনা। দখলদারদের নেপথ্যে কিছু অপ-প্রভাবশালীদের হাত থাকায় পাহাড় রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ গত ১২ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলার সময় হাতে নাতে দুই শ্রমিককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃত আবুল কাশেমের পুত্র সোনামিয়া ও আবদুল মালেকের পুত্র মো. নাছিরকে একমাসের সাজা দেয়া হয়।
জানা গেছে, এভাবে রহমান নামের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ আরও অনেক প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে প্রতিনিয়ত বসতি গড়ে তুলছে। এতে সরকারি পাহাড় বেদখল হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ছে, পর্যটনের শ্রী-হানি হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বসতি।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান বলেন, ‘পাহাড়ে বসতি গড়ে উঠলে উচ্ছেদ করা হয়। শুনেছি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিও পাহাড় কাটায় জড়িত। নতুন করে কেউ বসতি গড়ে তুললে তারা যতই শক্তিশালী হোক তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সরকারি পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ইত্তেফাক/এমআই
