১৬ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘মহামায়া গণ পাঠাগার’

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৭, ১১:৩৩
 
সহজে এক জায়গা থেকে ভালো বই পেতে হলে পাঠাগার গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এমন উপলব্ধি থেকে ২০০১ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়ায় কয়েকজন তরুণ গড়ে তোলে ‘মহামায়া গণ পাঠাগার’। প্রায় ১৬ বছর পর ২৪ জুলাই পাঠাগারটির দ্বিতীয় বর্ধিত পাঠকক্ষের উদ্বোধন করেন ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।
 
পাঠাগারটি পরিদর্শন ও বর্ধিত-কক্ষ উদ্বোধন-কালে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী বলেন, গত ১৬ বছর ধরে পাঠাগারটি ছাগলনাইয়ার একটি অংশকে আলোকিত করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা এ পর্যন্ত যতগুলো পাঠক তৈরি করেছে তা অনেক বড় বড় পাঠাগারের পক্ষেও সম্ভব হয়নি।
 
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গরীব শাহ্‌ হোসেন বাদশা চৌধুরী, মাষ্টার আবুল কালাম, ওসমান গণি, মুন্সী তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহামায়া গণ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান সভাপতি মো. ইউনুছ খান।
 
উল্লেখ্য, ‘পড়িলে বই আলোকিত মানুষ হই’ শ্লোগানে ২০০১ সালে মহামায়া ইউনিয়নের চাঁদগাজীতে গড়ে তোলা এই পাঠাগার এখন জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে। অজানা তথ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান ইতিহাস, ঐতিহ্য সবকিছুর খোঁজ মেলে এখন এ পাঠাগারে।
IMG0
পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পাল্টে গেছে গ্রামের চিত্র। এই গ্রামে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এখন নিয়মিত পাঠাভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বই পড়ার মাধ্যমে অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর দিকে এগিয়ে এ জনপদের মানুষজন। পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে চাঁদগাজী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, চাঁদগাজী তৌহিদ একাডেমী, জয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদগাজী জব্বারিয়া মাদ্রাসাসহ আশে পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা মহামায়া গণ পাঠাগার থেকে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, শিশুতোষ, সাধারণ জ্ঞান ও ধর্মীয় বই পড়ার সুযোগ পেয়ে তারাও আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও এই পাঠাগার থেকে বই নিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলেছেন।
 
'মহামায়া গণ পাঠাগার' সম্পর্কে জানতে চাইলে পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি ইউনুছ খান বলেন, 'এ পাঠাগারে সবাই আসেন। যে কেউ এসে বিনামূল্যে বই, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়তে পারেন। তবে বাড়িতে বই নিয়ে যেতে পাঠাগারের সদস্য হতে হয়। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসটিকে আগামীতে ডিজিটাল পাঠাগারে পরিণত করার চেষ্টায় আছি।’
 
প্রসঙ্গত, নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ সরকারের ৩টি মন্ত্রণালয় (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়) স্বীকৃতি প্রদান করে পাঠাগারটিকে। এটিই এখন পর্যন্ত ৩টি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ফেনী জেলার একমাত্র পাঠাগার।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর