নারীর লাশ নিয়ে স্বজনদের যশোর প্রেসক্লাবে অবস্থান

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৭, ১৯:৫৮
 
যশোর জেলার মণিরামপুরের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ রুমা খাতুনকে (২৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়না তদন্তের পর মঙ্গলবার দুপুরে রুমার লাশ নিয়ে নিহতের স্বজনরা প্রেসক্লাব যশোরের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং 'হত্যাকারীদের' শাস্তি দাবি করেছেন। তারা দাবি করেছেন, রুমাকে পিটিয়ে হত্যার পর স্বামী সাগরসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে।
 
রবিবার বিকেলে উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের শয়লা গ্রামে এঘটনা ঘটে। সোমবার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। রুমা খাতুন (২৫) একই উপজেলার শ্যামকুড় দক্ষিণপাড়ার মৃত ইজ্জত আলীর মেয়ে। তার তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। মৃত্যুর সময় তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
 
রুমার চাচাতো ভাই শ্যামকুড় গ্রামের শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ছয় বছর আগে মনিরামপুরের শয়লা গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে সাগরের সাথে রুমার বিয়ে হয়। সাগর ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। বিয়ের পর সাগর মোটরসাইকেলসহ পাঁচ লাখ টাকার মালামাল যৌতুক আদায় করেছে। কিছুদিন থেকে আরও ৩০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় রুমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। এছাড়া সাগর আরেকটি মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটিও হতো। সর্বশেষ রবিবার দুপুরে রুমাকে মারপিট করে শ্বাসরোধে হত্যা করে সাগর। ঘটনা ধামাচাপা দিতে রুমার মুখে কীটনাশক ঢেলে আত্মহত্যার প্রচারণা চালায়।
 
তিনি দাবি করেন, 'রবিবার বিকেলে নিহতের বোন ফোন করে রুমাকে হত্যার কথা জানালে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বোনের লাশ দেখতে না পেয়ে কেশবপুর ও কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে খবর নিই। ওই তিন হাসপাতালে রুমার মরদেহ না পেয়ে রাতে রুমার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গিয়ে লাশ দেখতে পাই। এরপর আমি মনিরামপুর থানা পুলিশকে জানাই। সোমবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।'
 
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন দাবি করেন, রুমা খাতুন আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্টে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান