নারায়ণগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা, যানজট

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৭, ২২:১৩
 
টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলছে ধীর গতিতে। এতে করে বুধবার শহরের ডিআইটি এলাকা থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।
 
বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শহরের চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত ও দুই নম্বর রেলগেট থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে। তেমনি যানজটে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতেও দেখা যায়। এদিকে শহরের চাষাঢ়া মোড়ে শহীদ জিয়া হলের সামনে থেকে ডনচেম্বার এলাকা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা দেখা যায়। একই ভাবে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে থেকে নূর মসজিদ পর্যন্ত হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে।
 
এছাড়াও প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বালুরমাঠ এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সোমবারের বৃষ্টি কিছুক্ষণ থেমে থেমে হওয়ায় শহরের তেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। তবে সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল  বিকাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ায় শহরের গলাচিপা, কলেজ রোড, কুড়িপাড়া, জামতলা, তোলারাম কলেজ, মহিলা কলেজের প্রধান ফটক সহ শহরের বিভিন্ন পাড়া মহলায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।জলাবদ্ধতার পাশাপাশি তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
 
আর এ যানজটের জন্য শহরের রাস্তার গুলোর বেহাল দশার জন্য দায়ী করেছেন চালক, হেলপার, সাধারণ যাত্রীরা। অনেকেই দাবি করেন এসব রাস্তাগুলোতে পানি না থাকার সময়ই ধীর গতিতে চলতে হয়। তবে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানকার অবস্থা নির্ধারণ করতে পারে না। যার ফলে ধীর গতিতে চলে গাড়ী গুলি। আর ধীর গতিতে একেকটি গাড়ি চলাচল করলে শহরের যানজট সৃষ্টি হয়।
 
অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তির পর কেটে গেছে ৬ বছর। তবুও দুর্ভোগ দূর হচ্ছে না। মিলছে না স্থায়ী কোনো সমাধান। মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়েছে এবছরের অতি বৃষ্টি। ফুটিয়ে অথবা ফিটকিরি দিয়েও পানি পানের উপযোগী করা যাচ্ছেনা। ওয়াসার পানির সঙ্গে ময়লা পানিও আসে মাঝে মধ্যে। বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে।
 
প্রসঙ্গত, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা অঞ্চলের ৬ হাজার হেক্টর জমি নিয়ে ১৯৬৫-১৯৬৮ সালে গড়ে তোলা ডিএনডি বাধে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ২০১৫ সালে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিএনডি এলাকা ঘুরে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখেন। পরে ২০১৬ সালে একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পর বছর পার হয়ে ফের বর্ষা মৌসুম চলছে।
 
ইত্তেফাক/জামান