মসজিদের সীমানা ঘেষে পুকুর খননের ফলে পানিতে চলে যাচ্ছে গ্রামের একমাত্র মসজিদটি। স্থানীয়রা জানায়, টানা বর্ষনের ফলে বুধবার সকালে মসজিদের অজুখানাসহ সীমানার প্রাচীর ভেঙে পড়েছে। মসজিদের দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় মসজিদটি পুকুরে বিলীন হতে পারে।
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মটমড়া ইউনিয়নের মহাম্মদপুর গ্রামের একমাত্র মসজিদ এটি। ২০১২ সালে মহাম্মদপুর হাফেজিয়া ও এতিমখানা জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদ তৈরি করেন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। পরে কাতার চ্যারিটি’র অর্থায়নে নির্মিত হয় মসজিদটি।
জানা যায়, হাফেজিয়া ও এতিমখানা শিক্ষার্থীসহ উক্ত এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ নিয়মিত নামাজ আদায় করে এই মসজিদটিতে। তবে ঐ এলাকার মৃত আব্দুল আলিম বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬০) পরিকল্পিতভাবে মসজিদের সীমানা ঘেষে পুকুর খনন করেছে। যার ফলে মসজিদের অজুখানাসহ সীমানার প্রাচীর ইতিমধ্যেই পুকুরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে মসজিদটি হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে এই মসজিদটি।
এ ব্যপারে স্থানীয় মুসল্লি রবিউল ইসলাম জানান, সিরাজুল ইসলামের বয়স হয়েছে। এক পা দুনিয়ায় আর আরেক পা কবরে। তা সত্বেও তার এ কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে মসজিদটি ভেঙে পড়তে চলেছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিন জানান, টানা বর্ষনের ফলে বুধবার সকালে মসজিদের অজুখানাটি ভেঙে পড়েছে। সিরাজুল ইসলামের এই পুকুরের কারনে যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে এই মসজিদটি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন জানান, আমরা মসজিদটি রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেই সঙ্গে সিরাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির দাবি করছি।
মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা রাশেদ কবীর জানান, মসজিদটি রক্ষার জন্য একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ধ্বংস হয়ে যাবে এই এলাকার একমাত্র মসজিদটি।
এ ব্যপারে সিরাজুল ইসলাম জানান, আমার জমিতে আমি পুকুর খনন করেছি। তাতে মসজিদ থাকলেই কি আর ভেঙে গেলেই কি? তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
এ ব্যপারে মটমড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহম্মেদ জানান, মুলত পুকুর খননের কারনে মসজিদসহ অজুখানা ধসে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা মসজিদ রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ-উজ-জামান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এলাকাবাসী এই মসজিদটি রক্ষায় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
