নাটোরে জমে উঠেছে ডিঙি নৌকা কেনা-বেচা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৭, ১৪:৩০
 
বর্ষা মওসুম। চলনবিলে থৈ থৈ পানি। গ্রামের মেঠো পথ, খাল-বিলগুলো পানির নিচে। চলাচলের ক্ষেত্রে প্রধান বাহন ডিঙি নৌকা হওয়ায় বাড়ছে চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত মিস্ত্রিরা। চলনবিলের চাঁচকৈড়ে বসেছে ডিঙি নৌকা তৈরি-বিক্রির বিশাল হাট।
 
আশপাশের প্রায় দশটি উপজেলা থেকে ক্রেতা এসেছেন এ হাটে নৌকা কিনতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে নৌকার হাট। এখানকার তৈরি নৌকা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। মঙ্গলবার সরেজমিনে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় হাট ঘুরে দেখা গেছে- প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে নৌকা বিক্রির হাট।
 
চলনবিলের সিংড়া থেকে আসা ক্রেতা সানজু ও শাহজাহান জানান, বিগত বছরের চেয়ে এবার চলনবিলে পানি বেশী। নিচু এলাকার সড়কগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এ গ্রাম থেকে সে গ্রামে যেতে এসব ডিঙি নৌকার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মাছ ধরার কাজে বেশী দরকারি এসব ডিঙি নৌকা।
 
একজন ক্রেতারা জানালেন, নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি কাঠের তৈরি ডিঙি নৌকা ১হাজার ৩০০টাকা থেকে শুরু করে ১হাজার ৭০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্লেন শীটের তৈরি নৌকা আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫’শ হতে ৩ হাজার ৫’শ টাকায়।
 
স্থানীয় নৌকা ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক, আলাল উদ্দিন ও নুরে আলম জানালেন, চলনবিলে বন্যা না থাকায় গত কয়েক বছর নৌকা ব্যবসা মন্দা গেছে। এবার বিলে পানি থাকায় নৌকার চাহিদা বাড়ছে। দিনরাত কাজ করেও নৌকা তৈরির কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। নৌকার দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তারা জানান- কাঠমিস্ত্রিদের মজুরী ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকার দাম বেড়েছে।IMG0
 
একটি কারখানার মিস্ত্রি ফজলু মিয়া জানান- প্রতিটি ডিঙি নৌকার জন্য ২০০টাকা মজুরী পান। দিনে ২টি করে ডিঙি নৌকা তৈরি করতে পারেন তারা। তারা জানালেন-চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে গুরুদাসপুরে চাঁচকৈড় হাটের অবস্থান হওয়ায় চলনবিল কেন্দ্রিক উপজেলাগুলো থেকে এই হাটে আসে নৌকা কিনতে। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে।
 
গুরুদাসপুর সমিল মালিক সমিতির সভাপতি মাহাতাব সরকার ও সাধারণ সম্পাদক কামাল সরকার বলেন, গত কয়েক বছরে নৌকা ব্যবসা ভালো না হলেও এ বছর বিক্রি ভালো হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নৌকার কদরও বাড়ছে।
 
ইত্তেফাক/এমআর