বাঘ রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৭, ২৩:৪৩

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বাঘ রক্ষার জন্য আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করি। বাঘের জন্য সুন্দরবন এখন অনেকটা নিরাপদ।

তিনি গতকাল সকালে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বন অধিদপ্তর আয়োজনে বাগেরহাটে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন নতুন প্রজন্মের জন্য আমরা এমন এক আগামী রেখে যেতে চাই যেখানে আমাদের সন্তানেরা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে জীবন ধারণ করবে। যারা নেতিবাচকতায় বিশ্বাস করে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও ভেবে ছিল বাংলাদেশ কখনই স্বাধীন হবে না। ৩৩ বছর আগে আমি যখন প্রথম মন্ত্রী হই তখন দেশের বাজেট ছিল বিদেশ নির্ভর। আজ আমরা যে বিরাট বাজেট নিয়ে কাজ করছি তার প্রায় সবটুকুই নিজস্ব অর্থায়নে। এটাই হচ্ছে স্বাধীন দেশে পরিবর্তনশীল ধারণার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই যে পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তার জন্য আমাদের অহংকার করতে হবে।

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোহম্মদ সফিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন, বিশেষ অতিথি বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা এমপি, বিশেষ অতিথি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ, খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ফারুক হোসেন, বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন ও বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির। অনুষ্ঠানে বিশ্ব বাঘ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘বাঘ আমাদের গর্ব, বাঘ রক্ষা করব’ বিষয়ের উপর আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আলোচনা সভায় আরও বলেন, বাংলাদেশ সবুজ ছিল, সবুজ আছে, সবুজ থাকবে। বৃক্ষ রোপণ জনপ্রিয় হয়েছে, গাছ-পালা লাগানো এই প্রবণতা আমাদের আনন্দিত করে। নানা কারণে সুন্দরবন ধ্বংস হচ্ছে এটা যেমন সত্য তেমনি বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে নতুন নতুন চর জাগছে, সৃষ্টি হচ্ছে নতুন সুন্দরবন। যা বিমান থেকে আকাশে বসে দেখা যায়। তিনি বলেন, বিদেশিদের পরামর্শে আমরা সুন্দরবনের বাঘের জরিপ করি। তাদের প্রকাশিত জার্নাল রিভিউর উপর আমরা নির্ভর করি। আমাদের জানতে হবে সুন্দরবন সম্প্রসারণশীল। পৃথিবীতে যখন বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছে তখন সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ার খবর আমাদের আশাবাদী করে তোলে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে বাঘ সংরক্ষণের কোন বিকল্প নেই। বাঘ সুন্দরবনের রক্ষক এবং এ বাঘের উপস্থিতির কারণেই সুন্দরবনের বৈচিত্র্য আজও অটুট রয়েছে। আর খুশীর খবর হচ্ছে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক স্বাক্ষর প্রটোকল অনুসারে সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার জন্য বন বিভাগ সব সময় সচেষ্ট এবং এ কাজে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। আন্তর্জাতিক ঘোষণা অনুসারে সুন্দরবনে বাঘ ও হরিণের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার মধ্যে অবৈধ হরিণ শিকার বন্ধ, আবাসস্থলের উন্নয়ন ও নিয়মিত টহল প্রদান করে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে বাঘ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, সুন্দরবন বাঘের জন্য এখন অনেকটা নিরাপদ। বাঘ রক্ষার জন্য আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণি ও বীরত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের একমাত্র আবাস স্থল হচ্ছে সুন্দরবন। সারা বিশ্বে বন উজার ও  শিকারী কর্তৃক বাঘ হত্যার ফলে বর্তমানে এ প্রাণিটি মহাবিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আমাদের সকলের প্রত্যয় হওয়া উচিত সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করে বিলুপ্তি হতে বাঘকে বাঁচানো এবং বাঘের প্রতি সদয় হওয়া।

বিশেষ অতিথি ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি বলেন, বাঘ রক্ষার জন্য সুন্দরবনের আশেপাশের বাসিন্দাদের সহযোগিতা থাকতে হবে। সুন্দরবন বাংলাদেশের রক্ষক, যা আমাদের ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষা করে। এ বন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। যারা এ বন ধ্বংস করছে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথি মীর শওকত আলী বাদশা এমপি বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের লোগো। এ বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন রক্ষা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। বনকর্মীদের জন্য ঝুঁকি ভাতা ও রেশন চালু করা দরকার।

বিশেষ অতিথি পরিবেশ ও বন সচিব ইসতিয়াক আহমদ বলেন, আইন প্রয়োগের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি অন্যান্য দেশের তুলনায় কমেছে। এখানে মানুষ ও বাঘের বৈরিতা হ্রাস এবং বন দস্যুদের আত্মসমর্পণসহ তাদের দমন করার ফলে বাঘ অনেকটা নিরাপদ অবস্থানে আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশি সাহায্যের স্মার্ট পেট্রোলিং সাময়িক বন্ধ হলেও পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর উদ্যোগে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এ কার্যক্রম আবার চালু করা হয়েছে। বনকর্মীদের জন্য নেওয়া হয়েছে ঝুঁকি ভাতা প্রদানেরও ব্যবস্থা।

সভাপতির বক্তৃতায় প্রধান বন সংরক্ষক মো. সফিউল আলম চৌধুরী বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিবের আগ্রহে এ বছর ঢাকার বাইরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের সদর দপ্তর জেলা শহর বাগেরহাটে বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হলো। এরমধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর বাঘ রক্ষার প্রতি আগ্রহ-সহানুভূতি তথা দায়িত্ব বাড়বে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

আলোচনা সভা শেষে সুন্দরবনের বনজীবী শিল্পীরা পটগান ও লোকজ গান পরিবেশন করেন।

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অতিথিবৃন্দসহ বাগেরহাটের প্রশাসন, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বনজীবী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দসহ শহরের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

ভাণ্ডারিয়ায় পোনা নদীর গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু

ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা ফজলুর রহমান জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-ভাণ্ডারিয়া-পিরোজপুর সড়কের ৪৩তম কিলোমিটারে পোনা নদীর উপর দুইশ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজের শুরু উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ  করেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বী, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম, নদমুলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল কবির বাবুল তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এর আগে মন্ত্রী পূর্ব ভাণ্ডারিয়া বায়তুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. জাকির হোসেন নিজাম মিয়া, ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. শাহিন আক্তার সুমী, ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাহিবুল হোসেন মাহিম, জেপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. খলিলুর রহমান খলিল, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর কাউন্সিলর মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ইউপি চেয়ারম্যার মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী, জেপি নেতা মো. হুমায়ুন কবির রাজু তালুকদার, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খান এনায়েত করিম, আব্দুল আজিজ সিকদার, মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন মামুন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খান মো. রুস্তুম আলী প্রমুখ।

এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ফলদ বৃক্ষমেলা ২০১৭ উদ্বোধন করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. শাহিন আক্তার সুমী, জাতীয়পার্টি জেপির উপজেলা আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস, কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না।

কাউখালীতে ফলদ বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন

কাউখালী সংবাদদাতা রবিউল হাসান রবিন জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল প্রধান অতিথি হিসেবে পিরোজপুরের কাউখালীতে তিন দিনব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন।

‘স্বাস্থ্য পুষ্টি অর্থ চাই, দেশি ফলের গাছ লাগাই’ এ শ্লোগানে কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার আয়োজন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন তালুকদার, উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী ফাতেমা ইয়াসমিন পপি, ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু, জেপির উপজেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুন্ডু, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও জেলা পরিষদের সদস্য শাহাজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী, জেপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলী আজিম শরীফ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

ইত্তেফাক/নূহু