তুরস্কে শোক দিবসে সিরীয় শরণার্থীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৫৪
দিনব্যাপী নানা আয়োজন ও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তুরস্কে  জাতীয় শোকদিবস এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪২তম  মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার শোক দিবসের কর্মসূচীতে বাংলাদেশ দূতাবাস তুর্র্কি রেড ক্রিসেন্ট এর সহযোগিতায় আঙ্কারায় বসবাসকারী ১০০টি দুস্থ সিরিয়ান শরণার্থী পরিবারের মধ্যে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণ করে।
 
আঙ্কারায় রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী’র নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অতঃপর দূতাবাসের কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য নির্মাণাধীন চ্যান্সারী প্রাঙ্গণে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
 
IMG0
 
শোক দিবসের সকালের কর্মসূচীতে বাংলাদেশ দূতাবাস তুর্কী রেড ক্রিসেন্ট এর সহযোগিতায় তুরস্কের আঙ্কারায় বসবাসকারী ১০০টি দুস্থ সিরিয়ান শরণার্থী পরিবারের মধ্যে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণ করে। এসময় রাষ্ট্রদূত জনাব এম. আল্লামা সিদ্দীকী এবং তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, আঙ্কারা শাখার প্রেসিডেন্ট আহমেত হিজানলিওগলসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত কর্মসূচী তুর্কী রেড ক্রিসেন্ট এর সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পায়। শোক দিবস উপলক্ষে, দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় কয়েকটি মসজিদে পবিত্র কোরআন এর কপি বিতরণ করা হয়।
 
শোক দিবস উপলক্ষে অপরাহ্ণে, দূতাবাসে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। আলোচনাপর্বের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাত্রে সংঘটিত ট্রাজেডির শিকার সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রবাসী বাঙ্গালীদের উপস্থিতিতে উক্ত দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী’র বাণী পাঠ করা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও অর্জনের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
 
IMG1
 
১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার প্রতি আলোকপাত করতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতির কল্যাণে ও তাদের অধিকার নিশ্চিতকল্পে বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে,বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতিকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করে শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতাই এনে দেননি বরং স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং বাঙ্গালী জাতির মূল্যবোধ, আদর্শ ও লক্ষ্য প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 
 
উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঙ্কারায় অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সুহাবুলকবাসি ও আঙ্কারা বিশ্বদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. গুরলবাবা)। তাঁরা ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এ সংঘটিত জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে একজন মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁরা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নপূরণের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন এবং দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। একটি জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর যে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন এবং আত্মনিবেদনতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে মাইলফলক হয়ে থাকবে মর্মে তাঁরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
 
পরিশেষে, শহীদদের আত্মার শান্তিকামনায় উৎসর্গীকৃত বিশেষ মোনাজাত এর মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির