মির্জাপুরে বন্যায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৭, ১৬:১০
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বিপদ  সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। যোগাযোগের অভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মানুষের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
 
বন্যার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙ্গছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। মির্জাপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের তিন লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পরেছে।  মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে বন্যার দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে।
 
উপজেলা প্রাথমিক  শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলায় সরকারী ১৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাদ্রাসা এবং ১০টি কলেজ রয়েছে।এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বছরের বন্যা ও গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে অন্তত অর্ধশত বিদ্যালয়ের মাঠ ডুবে বিদ্যালয় ভবনে পানি প্রবেশ করেছে।বিশেষ করে উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই ও আজগানা ইউনিয়নের নিচু এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে পানি প্রবেশ করায় ঐ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা চরম বিপাকে পরেছে।বিশেষ করে পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ্য হওয়ায় চরম বিপাকে পরেছে পৌরবাসি বলে পৌর মেয়র মো. সাহাদৎ হোসেন সুমন জানিয়েছেন।
 
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পৌর এলাকার আলহাজ্ব শফিউদ্দিন মিঞা এন্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজ, মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ,বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগধল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদিমধল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উফুলকী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাটি হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাটি নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়, মহেড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, চাকলেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়,ড. আয়েশা রাজিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ডিটিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহনতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোড়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুদিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও ভবনে বন্যা ও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে।এসব বিদ্যালয়ের মাঠ ও ভবনে পানি প্রবেশ করায় শিক্ষকরা পাঠদান করতে পারছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন,বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়ির তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।সরকারী ভাবে বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. খলিলর রহমান এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাঁকির হোসেন বলেন, যে সব বিদ্যালয়ে বন্যা  ও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে ক্ষতিগ্রস্থ্ হয়েছে ঐ সব বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।তালিকা তৈরির পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।বরাদ্দ এলে বিদ্যালয়গুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
 
ইত্তেফাক/রেজা