টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার পদচারণা ১৪০ বছরের। টেস্ট র্যাংকিংয়ের এখন তারা চার নম্বর দল। বিপরীতে ক্রিকেটের এ অভিজাত আঙ্গিনায় বাংলাদেশের পথচলা মাত্র ১৭ বছরের। র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। শক্তির এই বিস্তর ব্যবধানের পরও আজ রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরু হতে চলা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অতিথিদের ২-০ ব্যবধানে হারানোর স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও বলছেন, সময়ের বিবর্তনে শক্তির পাল্লায় পিছিয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জেতা সম্ভব। এ মিশনে বাংলাদেশকে সাহস যোগাচ্ছে নিকট অতীতের ধারাবাহিকতা। ২০১৫ সালের শুরু থেকে ঘরের মাঠে সাতটি টেস্ট খেলেছে টাইগাররা। জয় পেয়েছে একটি, হেরেছে দুটি ও ড্র করেছে তিনটি ম্যাচ।
জয়টি আবার সর্বশেষ ম্যাচেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। শুধু দেশে নয় বিদেশের মাটিতেও এ সময় চলতি বছরে পাঁচটি টেস্ট খেলেছে মুশফিক বাহিনী। নিউজিল্যান্ডে দুই ম্যাচ হারলেও দ্বিতীয় টেস্টে পাঁচদিন লড়েছে বাংলাদেশ। ভারতেও পঞ্চম দিনে পা পিছলে ড্রয়ের বদলে হারবরণ করতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় নিজেদের শততম টেস্ট জিতে সিরিজ ১-১ এ ড্র করেছিল মুশফিকের দল।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ২-০ তে সিরিজ জয় সম্ভব কিনা জানতে চাইলে গতকাল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক চলমান ধারাবাহিকতায় পাওয়া সাহসের কথাই উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘গত আড়াই বছরে আমাদের যেমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ছিলো, এটাই কিন্তু আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। বিশ্ব ক্রিকেট আমাদেরকে যেভাবে মূল্যায়ন করছে, এটা কিন্তু একটা দুইটা ম্যাচ জেতার কারণে নয়। বরং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে। এটা আমাদের আরো সামনে নিয়ে যেতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলার আগে, হোম কন্ডিশনে কিন্তু আমরা ভালো করেছি। এর ধারাবাহিকতাটা যেনো থাকে। যে রেজাল্টের কথা বললেন, সেটা সম্ভব। সে জন্য আমাদের অনেক কঠিনভাবে চেষ্টা করতে হবে। কারণ এমন একটা দলের সঙ্গে খেলছি, যারা শেষ পর্যন্ত লড়বে।’
সিরিজ জয়ের আশাবাদ জানালেও মুশফিক বলেছেন, দুদলেরই সমান সম্ভাবনা থাকবে। সিরিজের ফেভারিট দলের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বলা একটু কঠিন। যদিও আমাদের হোম কন্ডিশন, ওদের চেয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা (এখানে) বেশি। হতে পারে ওরা এই কন্ডিশনে কম ম্যাচ খেলেছে কিন্তু এখানে কিভাবে খেলতে হবে সেটা ওরা জানে। ভারতে সিরিজ হেরে গেলেও ওরা কিন্তু দ্বিতীয় টেস্ট জিতেছিল। আমার মনে হয়, এটা দুই দলের জন্য পঞ্চাশ-পঞ্চাশ থাকবে। কারণ, এখানে দেখতে হবে আমাদের বোলিং লাইনআপ অনভিজ্ঞ। ওদের অভিজ্ঞ কিছু বোলার আছে, খুব ভালো খেলেছে এমন কিছু ব্যাটসম্যানও ওদের আছে। সেদিক থেকে বলবো- ভারসাম্য দুই দলেই আছে।’
আজই টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। দুই সতীর্থের প্রতি শুভকামনা জানান অধিনায়ক। মুশফিক বলেছেন, তাদেরকে ভালো কিছু উপহার দিতে ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ দল।
অনেক চড়াই-উতরাই শেষে সিরিজ খেলতে এসেছে বলে অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক। একইভাবে সিরিজটাকে জয়ের আবিরে রাঙিয়ে ঐতিহাসিক করতে চান মুশফিক।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা অন্যান্য দলের মতো ১০-১২টা করে টেস্ট খেলি না। সুতরাং আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দিন পরপর খেলি বলি, প্রতিটি ম্যাচ আমাদের জন্য ঐতিহাসিক হয়ে যায়। আমরা যেনো বলতে পারি যে, বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতেছিলো, ম্যাচটা ঐতিহাসিক ছিলো।’
ইত্তেফাক/এমআর
