‘সকালে যেহানে রান্না করে খালাম, দুপুরে গেল নদীর প্যাটে। অবস্থা বেগতিক দেহে (দেখে) রাত ১২টার দিকে নিজেরাই ঘর ভাঙা শুরু করলাম।’ কথাগুলো বলছিলেন- মধুমতি নদী ভাঙনে নিঃস্ব লোহাগড়া উপজেলার চরবকজুড়ি গ্রামের মনি মোল্যার স্ত্রী গোলজান বেগম।
তেতুলিয়া গ্রামটি জেলার মানচিত্রে থাকলেও আর দৃশ্যমান নেই। এখন চরবকজুড়ি ও কামঠানা গ্রামও বিলীনের পথে। গত ১৫ দিনের মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে এ এলাকার ৩০টি বসতভিটা, বাড়ি-ঘর ও বহু গাছপালা।
এছাড়া প্রায় দুই বছর আগে নদীতে বিলীন হয়েছে তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবুও ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য চাঁন মিয়া মোল্যা জানান, নবম সংসদ নির্বাচনের সময় তেতুলিয়া গ্রামে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় আটশ জন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৫০ জন; এই ভোটারের মধ্যেও বেশির ভাগ ভাড়া থাকেন জেলা ও উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায়। গত ১০ বছর তেতুলিয়া গ্রামের চারশ পরিবার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে। এছাড়া কামঠানা, চরবকজুড়ি ও ছাগলছিড়া গ্রামের প্রায় পাঁচশ পরিবার মধুমতি নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নারায়ণ বিশ্বাস বলেন, এ এলাকায় বন্যা নেই। তবে ভাঙনের কারণে শত শত মানুষকে যেখানে-সেখানে থাকতে হচ্ছে। তেতুলিয়া বিলীন হওয়ার পর চরবকজুড়ি ও কামঠানা গ্রাম ভাঙছে। বলা যায় সবাই সর্বহারা হচ্ছে।
লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল সিকদার বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ‘তেতুলিয়া’ ওয়ার্ড মানচিত্রে থাকলেও দৃশ্যমান নেই। এখানে কোনো জনবসতি থাকার মতো অবস্থা নেই। নদী ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে নদী শাসনে কাজ করলেও আমার এলাকায় কোনো কাজ হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তেতুলিয়ার ভাঙন কবলিত অংশ পরিদর্শন করেছি। ওই এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। এজন্য কিছু ঘর-বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। প্রয়োজনীয় বাজেট পেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
