রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৩১
তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজদাগের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার বৈঠক করেছেন সেদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী। এসময় তাদের মধ্যে দু’দেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়সহ রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ এবং তুরস্কের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন। 
 
জানা গেছে, আঙ্কারায় যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন (জেইসি) এর পরবর্তী সভা এবং ঢাকায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনার দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়েরও আলোকপাত করেন তারা। জেইসি এর তুরস্ক অংশের প্রধান হিসেবে উপ-প্রধানমন্ত্রী আঙ্কারাতে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পরবর্তী সভা আয়োজনের বিষয়ে তার আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেইসি এবং এফটিএ এর সভা আয়োজনে তার সর্বাত্মক সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বিনিময়ের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে, গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্রের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা দু’দেশের সম্পর্ককে তুরস্ক যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করে এবং তিনি জোর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে দু’দেশের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
 
উক্ত বৈঠকে তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চান। রোহিঙ্গা সঙ্কটের ঐতিহাসিক পটভূমির প্রতি আলোকপাত করে রাষ্ট্রদূত বলেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভিটেমাটি হারা দুর্দশাগ্রস্ত ও পীড়িত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং আশ্রয়দানের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা একটি অত্যন্ত সাহসী উদ্যোগ হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সৃষ্টির মূলে রয়েছে মিয়ানমার এবং এ সঙ্কটের সমাধানও নিহিত রয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষের হাতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ এ সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধান প্রত্যাশা করছে। তিনি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কল্যাণার্থে  তুরস্ক সরকার কর্তৃক গৃহীত সময়োচিত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তুরস্কের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।
 
ইত্তেফাক/সেতু