মার্কিন কনস্যুলেট কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক বিরোধ

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের পাল্টাপাল্টি ভিসা নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৭, ২০:৩১
কূটনৈতিক বিরোধের সূত্র ধরে পারস্পরিক ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস গত রবিবার তুর্কি নাগরিকদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটনে তুর্কি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ‘সব ভিসা সেবার’ ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
 
গত সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তুরস্কে গত বছরের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের কথিত পৃষ্ঠপোষক ফেতুল্লাহ গুলেনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে ‘চরম বিরক্তিকর’ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ‘এরকম অভিযোগের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ আঙ্কারায় মার্কিন মিশন থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তুর্কি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। আর এই সময়ে আমরা তুরস্কে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সুবিধা স্থগিত রেখেছি।’ 
 
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তুরস্কের দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের মিশন ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে যে চুক্তি রয়েছে, সম্প্রতি আমরা সেটি পুনর্বিবেচনার কথা বলেছিলাম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা না করে আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমন সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরাও যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলাম। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে ধীরে ধীরে ই-ভিসা ও সীমান্ত ভিসার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।’
 
বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের  পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার ফলে সংকটে পড়বেন দুই দেশের নাগরিকরা। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য দেশ দুইটিতে যাওয়ার পথ খোলা থাকলেও পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পড়াশোনা কিংবা অস্থায়ী কোনো কাজের জন্য আপাতত কোনো কাজে তারা যেতে পারবেন না। বিবিসি ও আল জাজিরা।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির