একের পর এক স্থাপনার নাম পরিবর্তন করছে ভারত

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:২৩
কিছুদিন আগেই মুঘল ঐতিহ্য তাজমহলকে দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে ভারতের পর্যটন বিভাগের সরকারী তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। এতে অনেকেই ধারণা করতে শুরু করেন, দেশটির প্রাচীন ইতিহাসকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার উত্তর প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী মুঘলসরায় রেলস্টেশনের নাম পাল্টে গেলো দীনদয়ালের নামে। 
IMG0
কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে, বারানসির কাছে দেশটির চতুর্থ ব্যস্ততম ওই রেল জংশনটির নতুন নাম হল ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়’ স্টেশন। উল্লেখ্য, জনসঙ্ঘের এই বিশিষ্ট নেতা ১৯৬৮ সালে মারা যান। এ বছর তার জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে, দীনদয়ালের নামেই রাজ্যের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশন মুঘলসরায়ের নামকরণ করার প্রস্তাব দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গত আগস্টে রাজ্যের সেই প্রস্তাব অনুমোদিত হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে।
IMG1
প্রয়াত জনসঙ্ঘ নেতা দীনদয়ালের নামে মুঘলসরায় স্টেশনের নামকরণের রাজ্য সরকারি প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা হয়েছিল এক সময় সংসদে। সেখানে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ নরেশ অগারওয়াল। উইকিপিডিয়ার দেয়া তথ্য বলছে, এই স্টেশনই এশিয়ার বৃহত্তম রেল ইয়ার্ড। যা সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ আর দিনে গড়ে দেড় হাজার ওয়াগন যাতায়াত করে এই স্টেশন দিয়ে।
IMG2
আর এতে সমালোচনাও চলছে। ভারতীয় সংবাদপত্র আনন্দবাজার তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, ‘বৃত্তটি সম্পূর্ণ হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। প্রাচীন ঐতিহ্যের স্পর্শ লেগে থাকা মুঘলসরায় স্টেশনের নাম বদলে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় হয়ে গেল আনুষ্ঠানিকভাবে। ইতিহাসকে বিবর্তন করে সময়, যুগ ও রাজনীতি উপযোগী নাম বসানোর প্রবণতা শুধু উত্তরপ্রদেশ বা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারেরই আছে, এমনটা বললে ঘোর অসত্য বলা হবে। এই পথে ডানে-বামে-তৃণে কোথাও কোনো ভেদ নেই এবং একই সঙ্গে এই কথাও বলে রাখা দরকার, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত স্মারক নিয়েও আপত্তি নেই। আপত্তিটা আসলে ইতিহাসের অধ্যায়কে মুছে ফেলার প্রয়াসে।’ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
 
ইত্তেফাক/সেতু