কিংবদন্তীতুল্য কানাডীয় রক শিল্পী ও ‘ট্র্যাজিক্যালি হিপ’ ব্যান্ডের লিড ভোকালিস্ট গর্ড ডাউনির মৃত্যুতে কানাডাজুড়ে শোকের মাতম বইছে। কানাডার ‘সোনার ছেলে’র এ মৃত্যুতে দেওয়া এক আবেগ ঘন বক্তৃতায় কান্না এড়াতে পারেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পুরো বক্তব্যের সময়ই ট্রুডো ছিলেন প্রচণ্ড আবেগাক্রান্ত, তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরছিল।
কানাডীয় সঙ্গীতের এই কিংবদন্তী শিল্পী ২০১৫ সাল থেকে ব্রেন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছিলেন ‘টার্মিনালি ইল’ পেশেন্ট অর্থাৎ, সুস্থ হওয়ার আর কোনো আশা ছিল না তার। অবশেষে জীবন যুদ্ধে হার মেনে ৫৩ বছর বয়সে ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার মারা যান তিনি।
তার মৃত্যুতে বিদ্যুৎ গতিতে পুরো কানাডাজুড়ে শোক ছড়িয়ে পড়ে । গর্ডের অসুস্থতার কথা প্রথম থেকেই জানতো দেশটির সাধারণ মানুষ। যেকোনো দিন তার মৃত্যু সংবাদ শুনতে হবে, সেটিও সবাই জানতো । কিন্তু তারপরও গর্ডের মৃত্যুর সংবাদ দেশটির সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে, মানুষের হৃদয় ভেঙে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো তার অশ্রু সজল বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা জানতাম তার মৃত্যু আসছে। কিন্তু আমরা সেটি আশা করিনি। সে ছিল দেশের সবচেয়ে প্রিয় শিল্পী, সে ছিল আমার বন্ধুর মতো। সে সবার কাছেই ছিল বন্ধুর মতো। গর্ড বিহীন কানাডা আর পরিপূর্ণ থাকল না।’
IMG0
গর্ড ডাউনি গান গাওয়ার পাশাপাশি ছিলেন একজন গীতিকারও। তিনি অভিনয়ও করেছেন। তার ব্যান্ড ‘ট্র্যাজিক্যালি হিপ’ ৩০ বছরেও বেশি সময় ধরে কানাডার মানুষের প্রাণের ব্যান্ড হয়ে আছে। ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট শেষবারের মতো দর্শক শ্রোতাদের সামনে আসেন এ শিল্পী। সেটিই ছিল তার শেষ কনসার্ট। ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কারণে এ কনসার্টেই গর্ড জানিয়ে দিয়েছিলেন, জীবনে আর কখনো এভাবে দর্শকশ্রোতাদের সামনে হাজির হবেন না।
কনসার্ট শেষে ট্রুডো টুইট করেছিলেন, ‘আজীবন তোমরা আমাদের হৃদয়ে থাকবে আর প্লে লিস্টেও।
ওই কনসার্টকে ঘিরেও কানাডাজুড়ে শোকের মাতম বইছিল। সবাই তাদের কিংবদন্তী শিল্পীকে শেষবারের মতো কনসার্টে গাইতে দেখেছেন, হয়েছেন আবেগ আপ্লুত। তার ওই কনসার্টটি পুরো কানাডাজুড়ে টিভিতে সম্প্রচার করা হয়। শুধু তাই নয়, কানাডার এই সংগীত কিংবদন্তিকে সম্মান জানানোর জন্য এই দিনটিকে ‘দ্য ট্র্যাজিক্যালি হিপ ডে’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
ইত্তেফাক/রেজা
