যত বৃষ্টি হচ্ছে ডিএনডিবাসীদের দুর্ভোগ ততোই বাড়ছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি অভ্যন্তরের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে। গত রবিবার সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি বাঁধ অভ্যন্তরের মুক্তিনগর, আদর্শনগর, বাঘমারা, সানারপাড়, মিজমিজি, পাইনাদি, নতুনমহল্লা, সিআইখোলা, কদমতলী, জালকুড়ি গিয়ে দেখা যায় সর্বত্রই পানি থৈ থৈ করছে। এসব এলাকায় গত ৫ মাস জলাবদ্ধতার পর কিছুটা পানি কমলেও গত ৩ দিনের বৃষ্টিতে আবার পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে আশার কথা হচ্ছে চলতি মাসেই ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনডি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করছে সেনাবাহিনী।
টানা বর্ষণে ডিএনডি এলাকায় প্রায় সব রাস্তাঘাটই পানিতে ডুবে আছে। হাজার হাজার মানুষের চলাফেরা, রান্না-বান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বিঘ্ন ঘটছে। পানির নিচে কোনটা রাস্তা আর কোনটা নালা বোঝা যায় না। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগ এলাকায় আক্তারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হাঁটুপানি। ঘরের মধ্যে মাচা বেঁধে বসবাস করছেন তিনি। হোটেল থেকে শুকনো খাবার কিনে পরিবার খাওয়াচ্ছেন। আলী আকবর স্কুলের ছাত্রী রেশমা জানায়, তাদের বাড়ির ভেতরে ও রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি। স্কুলে যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়। ডিএনডির অধিকাংশ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ নিচু বাড়ি পানির নিচে। অনেক বহুতল ভবনের নিচতলা পানিতে ডুবে আছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ যান্ত্রিক সেচ পাম্প হাউজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাম প্রসাদ বাছেদ জানান, অতিরিক্ত বর্ষণে পানি এখন বিপদসীমার উপরে। অতিরিক্ত পানি সেচে বের করার জন্য ১২৮ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি ও ৫ কিউসেক ক্ষমতার ছোট ১০টি পাম্প সচল রয়েছে। এছাড়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া ২টি পাম্প চালু আছে। আশা করি, আর বৃষ্টি না হলে আগামী ৭ দিনের মধ্যে পানি কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
