বাল্যবিবাহ তৃতীয় বিশ্বের সমস্যা বলেই সাধারণের ধারণা। কিন্তু খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে এই এই প্রথা প্রচলিত। বিবিসির বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ১৮ বছর বয়সের নিচে বিবাহ বৈধ।
২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ বাল্যবিবাহ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিবিসির প্রতিবেদনে ওইসব ভুক্তভোগীদের কষ্টের বিবরণ উঠে এসেছে। অ্যাঞ্জেল ম্যাকগিহি নামের এক নারী বলেন, আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স ছিল ১৩ বছর, ১৫ বছর বয়সে আমার প্রথম সন্তান হয়।
IMG0
২৬ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলের এখন ৫টি সন্তান রয়েছে, দুটি সন্তান তার নতুন স্বামীর ঔরসে।
IMG1
অ্যাঞ্জেল বলেন, আমার প্রথম স্বামী আমার উপর অনেক নির্যাতন করতো। আর আমিও দ্বিধাবোধ করতাম কারণ সেই ছিল আমার জীবনের প্রথম পুরুষ। আমার নিজের স্বামীর দাস মনে হত। অশ্রুমাখা চোখে তিনি বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছানুযায়ী কম বয়সে বিয়ে বাচ্চা নেয়ার জন্য হয়তো আমি অনেক কিছু হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অ্যাঞ্জেল যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো রাজ্যের বাসিন্দা এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ প্রচলিত। প্রতি ১০ হাজারে ২০ জন কিশোরী সেখানে বাল্যবিবাহের শিকার। ২৫টি রাজ্যেতো বিয়ের সর্বনিম্ন বয়সের বাধ্যবাধকতার আইনও নেই। আর যে রাজ্যগুলোই আইন রয়েছে সেগুলোরও বয়সসীমা ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়স।
IMG2
ফ্লোরিডার শেরি জনসনের কাহিনীটা আরো মর্মন্তুদ। মাত্র ১১ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করতে হয়, তাকে ধর্ষণ করা এক তরুণকেই। তিনি বলেন, আমার মা ২০ বছর বয়সী ওই ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেন যার কারাগারে থাকার কথা।
IMG3
১৬ বছর বয়সের মধ্যেই আমি ৬টি সন্তান জন্ম দেই। আমার নিজের কোনো আয়ের উৎস ছিল না, তার উপরেই আমাকে নির্ভর করতে হত। শেরিল বর্তমানে ফ্লোরিডায় বাল্যবিবাহের আইন পরিবর্তনে লবিস্ট হিসেবে কাজ করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্রই এই বিষয়ে সচেতনতার শুরু হলেও ২০১৪ সালের মধ্যে গুয়াতেমালা, জিম্বাবুয়ে, এল সালভাদর, তানজানিয়া, হন্ডুরাসের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ আইন করে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেতো বহু আগে থেকেই বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ।
বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ নিরোধ নিয়ে কাজ করা মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘আনচেইন্ড অ্যাট লাস্ট’ এর ফ্রেইডি রেইস বলেন, আমরা যখন আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে বিভিন্ন দেশে গিয়ে বলি ১৮ বছরের আগে বিবাহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, অথচ আমাদের দেশের ৫০টি রাজ্যেই বাল্যবিবাহ আইনত বৈধ। আমাদের কাছে বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে যারা আসে তাদের বেশিরভাগই কিশোরী এবং তাদের উপর সেটা চাপিয়ে দেয় তাদের নিজের বাবা মা। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সাব্বির
