মাও সে-তুং এর পর সবচেয়ে শক্তিশালী চীনা নেতা শি জিনপিং

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ১২:৩২
চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে মাও সে-তুংয়ের পর এবার নতুন করে আবির্ভূত হলেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দেশটির গঠনতন্ত্রে কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাওয়ের নামের পাশে ঠাঁই হয়েছে দলটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জিনপিংয়ের নাম। এর আগে শি’র নাম ও মতাদর্শকে চীনের গঠনতন্ত্রে সন্নিবেশিত করার পক্ষে ভোট দেয় চীনের কমিউনিস্ট পার্টি।
 
ফলে, এখন থেকে তাকে চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো পদক্ষেপকে কম্যুনিস্ট পার্টির শাসন ক্ষমতার বিরুদ্ধে হুমকি হিসাবে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া ক্ষমতা, প্রতিপত্তি এবং মর্যাদার বিচারে শি এখন দলের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে-তুংয়ের সমপর্যায়ে উঠে গেলেন। মাও সে-তুংয়ের পর তিনিই হয়ে উঠেছেন চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং প্রভাবশালী নেতা। দলের মেনিফেস্টোতে ‘নতুন যুগে চীনা সমাজতন্ত্র নিয়ে শি জিনপিংয়ের মতাদর্শ’ ঢোকানোর এই প্রস্তাব অনুমোদনে বেইজিংয়ে গ্রেট হলে দলের ২ হাজার প্রতিনিধি হাজির হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা বলছেন, প্রস্তাবে কারো কোনো আপত্তি রয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলে উপস্থিত কম্যুনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিরা সমস্বরে চেঁচিয়ে ওঠেন- না নেই।
IMG0
ফলে, এখন থেকে চিনা কম্যুনিস্ট পার্টির ৯ কোটি সদস্যের পাশাপাশি স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে কল-কারখানার শ্রমিকদের চীনা সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বর্তমান নেতা শি জিনপিংয়ের ‘মতাদর্শ’ পড়তে হবে। এর আগেও দাং শাওপিংসহ গুটিকয়েক নেতার ‘দর্শন’ বা ‘ভাবনা-চিন্তা’ দলের সংবিধানে স্থান পেয়েছে। কিন্তু মাও সে-তুং ছাড়া কোনো নেতারই দর্শনকে ‘মতাদর্শ’ হিসাবে মর্যাদা পায়নি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখন থেকে হয়তো মাও এর রেড-বুকের মত শি জিনপিংয়ের মতাদর্শ সম্বলিত কোনো পুস্তিকা চীনে প্রায় বাধ্যতামূলক পাঠ্য হিসাবে আবির্ভূত হবে।
IMG1
শি জিনপিংয়ের ‘মতাদর্শ’ আসলে কী? প্রথম দেখলে বা শুনলে ‘শি জিনপিং মতাদর্শ’কে নেহাতই অস্পষ্ট কথামালা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই চীনা কম্যুনিজম নিয়ে তিনি এসব কথাই বলে যাচ্ছেন। তার ১৪টি মূলনীতিতে তিনি চীনের শাসন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে কম্যুনিস্ট পার্টির ভূমিকাকে জোর দিয়েছেন। শির মতাদর্শের মধ্যে আরো রয়েছে:
IMG2
‘পরিপূর্ণ সংস্কার’ এবং ‘নতুন ভাবনা-চিন্তা’। ‘মানুষ এবং প্রকৃতির সহাবস্থানের’ প্রতিশ্রুতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ জোর দিচ্ছেন শি জিনপিং। ‘চীনা সেনাবাহিনীর ওপর কম্যুনিস্ট পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’। ‘এক দেশ দুই নীতি’ এবং ‘মাতৃভূমির একত্রীকরণ’ যেটাকে পর্যবেক্ষকরা ব্যাখ্যা করছেন হংকং এবং তাইওয়ানের ব্যাপারে মি শি’র অবস্থান। চীনা কম্যুনিস্ট পার্টিতে এখন শি জিনপিং এই শাসনামলকে ‘নতুন যুগ’ উল্লেখ করে একে আধুনিক চীনের তৃতীয় অধ্যায় হিসাবে দেখা হচ্ছে। প্রথম অধ্যায়টি ছিলো যখন মাও সে-তুং গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত চীনকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। দ্বিতীয় অধ্যায় ছিলো যখন দাং শাওপিং চীনকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর তৃতীয় অধ্যায়টি হলো বর্তমান সময় যখন শি জিনপিং চীনকে আরো ঐক্যবদ্ধ করেছেন, চীনের সমৃদ্ধি বাড়িয়েছেন  ও দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরে চীনের প্রতিপত্তি এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সেতু