সরিষাবাড়ীতে ইউপি সদস্যের হামলায় আহত পৌর লাইসেন্স পরিদর্শক মারুফ হোসেনের মৃত্যুর সংবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকাবাসী টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে যমুনা সারকাখানার সার পরিবহনসহ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাজা মিয়া ওরফে রাজা মাস্তানের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ অগ্নিসংযোগ করে জনতা। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার আওনা ইউনিয়নের মেন্দারবেড় গ্রামের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও পৌর লাইসেন্স পরিদর্শক মারুফ হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের রাজা মিয়া ওরফে রাজা মাস্তানের বিরোধ চলে আসছিল। রাজা মিয়া আওনা ইউপি সদস্য বলে জানা গেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল যোগে অফিস যাওয়া পথে এ বিরোধের জের ধরে রাজা মিয়া ধারালো অস্ত্র নিয়ে মারুফ হোসেনের উপর হামলা চালান। এতে মারুফ ও মোটরসাইকেল আরোহী লালচান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে যমুনা সারকারখানা হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার আরো অবনতি হলে মারুফকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জনতার চাপের মুখে রাজা মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় ধারালো অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করে।
IMG0
৩৬ দিন চিকিৎসা চলার পর মারুফ বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান। এ সংবাদে জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এলাকাবাসী টায়ার জ্বালিয়ে তারাকান্দি-ভূয়াপুর ও তারাকান্দি-জামালপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে যমুনা সারকাখানার কমান্ডভুক্ত এরিয়ার ১৯ জেলায় সার পরিবহনসহ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অবরোধকারীরা কয়েকটি অটোরিকশা ভাংচুর করে। অবরোধ চলাকালে এলাকাবাসী আরো সংগঠিত হয়ে পাখিমারা গ্রামে রাজা মিয়ার পক্ষের লোকজনের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে। এতে ৩টি বসতঘর পুড়ে যায় ও ৪টি বসতঘর লাঠিসোটা দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ওসি রেজাউল ইসলাম খান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
