১৯০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের চিনচিনাতিতে ইনগালস বিল্ডিংটি তৈরি হওয়ার সময় তা নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয়-সন্দেহের কমতি ছিল না। কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা হবে ১৬তলা ভবন! শুনে অনেকেই আঁতকে উঠেছিলেন। উঠবেনই না কেন তখন কংক্রিটের তৈরি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ছিল মাত্র ছয় তলা বিশিষ্ট। এ কারণে ভবনটির নির্মাণ কাজ হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন যে কোনো সময় ভেঙে পড়বে ভবনটি।
মজার বিষয়, ভবন নির্মাণের শেষ হওয়ার দিন পুরো রাত ইনগালস বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি অবস্থান করেছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। সকাল বেলা ভবন ভেঙে পড়লে সবার আগে সেই খবর যাতে তিনি সংগ্রহ করে বাজিমাত করতে পারেন। তবে তাদের সেই উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা উপেক্ষা করে ভবনটি আজো সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
নতুন কিছু করাটা এজন্য সব সময়ই একটা চ্যালেঞ্জের। এবার এমনই একটি চ্যালেঞ্জ যোগ হয়েছে নির্মাণ শিল্পে। ইট, পাথর কিংবা কংক্রিট নয় সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি হবে গগণচুম্বী সব অট্টালিকা। সুইডেনের স্টকহোমে এবার সম্পূর্ণ কাঠের একটি গগণচুম্বী ভবন তৈরির পথে ইঞ্জিনিয়াররা।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএফ মোলার এন্ড ডিনেল জোহানসন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৩৪তলা বিশিষ্ট সম্পূর্ণ কাঠের একটি ভবন তৈরির ঘোষণা দেওয়ার পরে অনেকেই ইনগালস বিল্ডিংয়ের প্রথম দিকের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিল। কিন্তু সেই জল্পনা-কল্পনাকে ছাপিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ভবনটি। নির্মাতাদের দাবি, ৩৪তলা এ ভবনের পিলার থেকে সবকিছুই সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি। স্টিল ও কংক্রিটের ভবনের চেয়ে এটি বেশি অগ্নিনিরোধক। ফলে খুব টেকসই হবে।
একটি আবাসিক উদ্দেশ্যে ভবনটি তৈরি করা হলেও এখানে মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, জিমনেসিয়াম সবকিছুই থাকবে। বেশ সস্তা ভাড়ায় লোকজন এখানে থাকতে পারবেন। পুরো ভবনে সাধারণ বিদ্যুতের পরিবর্তে সৌরচালিত বিদ্যুতের সুবিধা থাকবে।
ইত্তেফাক/নূহু
