ভিয়েতনামে ঘূর্ণিঝড় ডামরের তাণ্ডবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরো ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার কান হোয়া প্রদেশের নিয়া চ্যাং শহরের কাছ দিয়ে ডামর সাগর থেকে স্থলে উঠে আসে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
এরপর ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের তোড়ে ওই এলাকার বহু ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যায়, গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যায়। তারপর থেকে দেশটির মধ্যাঞ্চলজুড়ে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিপাতে বন্যা দেখা দিয়েছে। কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ভিয়েতনামের দুর্যোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটি সোমবার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে এ পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত ও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই কান হোয়া প্রদেশের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন তারা। কিমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় দুই হাজার বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ৮০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় রাস্তা ডুবে যাওয়া এবং সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সোমবার থেকে ওই অঞ্চলের ডানাংয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় সব নেতার সেখানে যোগদানের কথা রয়েছে।
ডানাংয়ের কর্তৃপক্ষ বৃষ্টিজনিত পরিস্থিতি সামাল দিতে সৈন্য তলব করেছে। অ্যাপেক সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রতিনিধিদের জন্য উপকূলীয় এলাকার অবকাশ কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার করতে সৈন্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও তাতে সম্মেলনের সূচি বিঘ্নিত হবে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় এলাকা থেকে সরে গিয়ে ভিয়েতনামের কফি উৎপাদিত অঞ্চলের দিকে এগিয়ে গেছে। কফি খামারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফসল তোলার এই সময়ে ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে কিছু কফি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি তেমন মারাত্মক নয় বলে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। গত মাসে উত্তর ভিয়েতনামে ভয়াবহ বন্যায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ইত্তেফাক/সাব্বির
