রবিবার প্যারাডাইস পেপার্স নামে যে এক কোটিরও বেশি গোপন দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছে তাতে উঠে এসেছে কিভাবে পৃথিবীর বড় বড় ধনী ও ক্ষমতাবান লোকেরা আয়কর এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ক্যারিবিয়ান দ্বীপে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন। খবর বিবিসি’র
বিবিসির অনুষ্ঠান প্যানোরামা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম (আইসিআইজে), এবং জার্মান সংবাদপত্র জুয়েডয়েচে জাইটুং এর করা এক তদন্তের অংশ হিসেবে এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি দলিলপত্র পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অফশোর বা বিদেশি বিনিয়োগ এখন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়কর কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার কোটি ডলার গচ্ছিত রাখা হয়েছে। কিন্তু বিত্তবানরা তাদের নিজ দেশের আয়কর কর্তৃপক্ষকে এড়াতে কিভাবে এই কৌশল ব্যবহার করে? বিশ্লেষকরা বলছেন, নগদ অর্থ গোপন রাখার পাঁচটি ধাপ আছে যা বেশ সহজ। প্রথমত শুধু নাম দিয়ে একটি কোম্পানি গঠন করতে হয়।
এই কোম্পানিটি হয় অফশোর অর্থাৎ বিনিয়োগকারী যে দেশের তা থেকে আলাদা কোনো দেশে, যেখানে খুব কম বা শূন্য আয়করের সুবিধা পাওয়া যায়। এগুলো প্রায়ই হয় ছোট ছোট দ্বীপে। যেমন, বারমুডা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ বা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস অথবা ইংল্যান্ডের আইল অব ম্যান, গার্নসি, বা জার্সি। সেখানে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে কড়া গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।
সে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের বিনিময়ে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় যাতে দলিল-দস্তাবেজে প্রকৃত মালিকের নাম না থাকে। এছাড়া ভিন্ন আরেকটি দেশে অর্থাত্ অফশোরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। প্রকৃত মালিকের যাতে নাম প্রকাশিত না হয় সেজন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেই অ্যাকাউন্টে গিয়ে ওই কোম্পানির অর্থ জমা হবে।
এ অর্থ কোম্পানির সম্পত্তিতে খরচ করা হয়। অথবা ঋণ বাবদ যেটি কখনোই পরিশোধ করা হয় না। যেমন - এর দ্বারা আপনি বাড়ি, গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আয়কর থেকে নগদ অর্থ লুকানোর জণ্য এটি একটি উপায় মাত্র। বস্টন কনসালটিং গ্রুপের সূত্র মতে, এ পদ্ধতিতে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত আছে সেটি পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি জাপান, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মোট অর্থনৈতিক উত্পাদনের চেয়ে বেশি।
ইত্তেফাক/আনিসুর
