রংপুরের পাগলাপীর ও গঙ্গাচড়া ইউনিয়নে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং উষ্কানি দেয়ার অভিযোগে শলেয়া শাহ জামে মসজিদের খতিব ও জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
এছাড়া এ ঘটনায় রংপুর কোতয়ালী ও গঙ্গাচড়া থানায় ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬ হাজার দুর্বৃত্তের নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার জামায়াত ইসলামের আমিরসহ ৪৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে, সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শ করতে এসেছেন। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি জানান। এছাড়া দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেখানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান। প্রত্যেকটি পরিবারকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বিপিএম, পিপিএম জানান, জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম সহিংস ঘটনার মূল নেতৃত্ব দিয়েছে। তাকে আজ ভোর চারটার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিয়া জানান, কোতয়ালী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম রফিক বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ৩৬ জনকে আসামি দেখিয়ে আরো অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার দুর্বৃত্তের নামে কোতয়ালী থানায় মামলা করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পীরগঞ্জ উপজেলার জামায়াত ইসলামের আমির গোলাম মোস্তফা, সেক্রেটারি খায়রুল আলম বিএসসি, সাবেক সেক্রেটারি মোকছেদ আলী ও জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম কে কোতয়ালী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আমরা বাড়িঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি ও খাবার এবং নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছি। পরবর্তীতে তাদেরকে আরো সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এএম।
