নওগাঁর রাণীনগরের মিরাট ইউনিয়নের তিনটি স্লুইস গেটে এবং উপজেলার রতনঢালী ডারার একাধিক স্থানে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ সুতি জাল দিয়ে নিধন করা হচ্ছে মাছ। এতে করে মুক্ত জলাশয় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলীন হতে চলেছে।
দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় প্রভাবশালী সরকার দলীয় নেতাদের ছত্র-ছাঁয়ায় অবৈধভাবে নিষিদ্ধ এই জাল দিয়ে মাছ নিধন করা হলেও কর্তৃপক্ষ নীরব। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নটি হচ্ছে খাল ও বিল অধ্যুষিত এলাকা। এই ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দারা মত্স্যজীবী। তারা এই সব মুক্ত খাল-বিল থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ও মত্স্য অফিসের সঙ্গে আঁঁতাত করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তিনটি স্লুইস গেটে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ সুতি জাল দিয়ে মাছ নিধন করে আসছে। এতে করে মুক্ত জলাশয় থেকে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-প্রজাতির মাছ। এই জাল দিয়ে কোনো প্রকারের মাছ বের হতে পারে না। তাই স্থানীয় মত্স্যজীবীরা মুক্ত জলাশয় থেকে আগের মতো তেমন আর মাছ পায় না। তাই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্য পেশায়। স্থানীয়রা অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় এই সাধারন মত্স্যজীবীরা তাদের কাছে জিম্মি। অপরদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সদর ইউনিয়নের রতনঢালী ডারার একাধিক স্থানে দীর্ঘদিন যাবত এই নিষিদ্ধ সুতি জাল দিয়ে মাছ নিধন করা হচ্ছে।
২নং স্লুইস গেটের সুতি জালের মালিক মেছের চাঁন জানান, এলাকার নেতা, স্থানীয় মানুষ ও মত্স্যজীবীসহ প্রায় ২শত মানুষ এই সুতিজালের অংশীদার। আমি শুধুমাত্র মাছ তোলার মালিক। প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে মত্স্য অফিস থেকে শুরু করে অনেক কর্মকর্তারা এসে উপঢৌকন হিসাবে মাছ নিয়ে যায়। মাঝখান থেকে আমরা কিছু মাছ পাই।
৩ নং স্লুইস গেটের সুতিজাল পরিচালনাকারী মো. আজিজুল ইসলাম জানান, স্থানীয় নেতারা এই সুতি জালের মাছ নিয়ে যান। তাই তাদের অনুমতি সাপেক্ষে আমি এই সুতি জাল পরিচালনা করে আসছি। প্রতিদিন বিভিন্ন অফিস থেকেও স্যারেরা এসে মাছ নিয়ে যান।
মিরাট মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সাহার আলী সরকার ও অন্যান্য সদস্যরা জানান, অবৈধভাবে জোর করে এই সব জাল দিয়ে মাছ নিধন করায় মুক্ত জলাশয় থেকে দিন দিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। মুক্ত জলাশয় থেকে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা কোন মতে টিকে আছি। কোন স্থানে অভিযোগ দিয়ে আমরা লাভ পাই নাই। আমরা এসব মানুষের হাতে জিম্মি।
উপজেলায় সদ্য যোগদান করা মত্স্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান জানান, আমি মাত্র এই উপজেলায় যোগদান করেছি। আমি এই উপজেলা সম্পর্কে এখনও কোন কিছুই ভালো ভাবে জানতে পারিনি। তবে আমি অতিদ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া এই দপ্তরে জনবলের চরম সংকট থাকায় ইচ্ছে করলেও সব জায়গায় যাওয়া যায় না।
ইত্তেফাক/এএম।
