যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে বিপক্ষে অসংখ্য ভুয়া খবর মিডিয়াতে প্রচার হয়েছিল। অন্যান্য ঘটনার পাশাপাশি এসব খবরও প্রার্থীদের জয় পরাজয়ে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু বিবিসির অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে ট্রাম্পের পক্ষে যত ভুয়া খবর বের হয়েছিল তার বেশিরভাগের উত্স ছিল ম্যাসেডোনিয়ার ভেলিস নামের একটি ছোট্ট শহর। এই শহরের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-যুবকরাও জড়িয়ে পড়েছিল ভুয়া খবর তৈরীর কাজে। এই কাজ করে তারা হাজার হাজার ডলার অর্থ উপার্জনও করেছে।
গোরান নামের ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্র জানায়, সে ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফিরেই বসে যেত ট্রাম্পের পক্ষে ভুয়া খবর তৈরী করতে। তার ভাষ্য, আমেরিকানরা আমাদের বানানো ‘গল্প’ পছন্দ করত আর আমরা সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতাম। এতে দোষ তো দেখি না। সত্য কিংবা মিথ্যা এসব কে যাচাই করত! গোরান জানায়, সে যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থি ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো থেকে খবর যোগাড় করত। আর এগুলোর অনুকরণে নতুন কোনো গল্প বানাতো। মূলত ‘কল্পনাশক্তি’ ব্যবহার করে তারা গল্পগুলো সাজাতো। যে নিউজ যত মিথ্যা হতো তার ‘হিট’ তত বেশি হতো। একারণে শেষ দিকে গিয়ে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। হিলারিকে নিয়ে তারা অনেক ভুয়া নিউজ ছেড়েছিল। সেগুলো মিথ্যা হলেও মানুষ বিশ্বাস করত।
আরেক ছাত্র জানায়, তারা আমেরিকার সংবাদমাধ্যমগুলোর মতো আকর্ষণীয় হেডিং দেয়ার প্র্যাকটিস করেছিল কিছুদিন। এরপর কাজে নেমে পড়ে। মার্কিনীদের কাছে নিউজগুলো পৌছে দেয়ার জন্য নিজেরা ডেমোইন ও হোস্টিং কিনে আমেরিকার কোনো নিউজ ওয়েবসাইটের আদলে নতুন একটা সাইট বানিয়ে ফেলত। এরপর প্রচুর কপি-পেস্ট করা আর্টিকেল দিয়ে সেই সাইট ভরে ফেলত। বেশ কিছু কনটেন্ট যোগ হবার পর তারা আকর্ষনীয় হেডিংয়ে ভুয়া খবর পোস্টিং শুরু করত। এরপর ফেসবুক ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রদের পাঠকদের টার্গেট করত। আর সেখানকার একজন পাঠক ওই খবর পড়ার পর সেও শেয়ার দিতো। এভাবে মার্কিন পাঠকরাও নিজের অজ্ঞাতে আমাদের ভুয়া খবর বিলি করার কাজে সহযোগিতা করত।
তবে স্থানীয় একজন সাংবাদিক বলেন, এসব কিশোর যুবকদের নৈতিকতা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তারা হয়তো সহজে পাওয়া অর্থের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু এমন একদিন আসতে পারে বাইরে বসে অন্য কেউ ভুয়া খবর ছড়িয়ে তাদের দেশের নির্বাচনেও জনমতকে প্রভাবিত করে দিল। তখন সেটা দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের ভালো লাগবে না নিশ্চয়।
ইত্তেফাক/আনিসুর
