রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হলের সামনে থেকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অপহৃত ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, সকালে ভুক্তভোগী ও তার তিনজন সহপাঠি স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে হল থেকে বের হন। এ সময় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে সাদা মাইক্রোবাসে ওই ছাত্রীর সাবেক স্বামীসহ ৫-৬ জন যুবক জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত তার সাবেক ‘স্বামী’ সোহেল রানা পেশায় একজন আইনজীবী। সোহেলের বাড়ি নওগাঁর পত্মীতলা উপজেলা নজিপুরে।
ওই ছাত্রীর রুমমেট জানান, সোহেলের রানার সঙ্গে ওই ছাত্রীর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বিয়ে হয়। সোহেল তাকে যৌতুকের জন্য প্রায় সময় চাপ প্রয়োগ করত। সোহেলের সঙ্গে অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ তালাক হয়। তালাকের দুই মাস চলছে। তিন মাস হলে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। আগামী মাসের ১০ তারিখ তালাক কার্যকর হবে। তবে সোহেল চাচ্ছে যাতে তালাক না হয়। এজন্য সোহেল তাকে ফোনে প্রায়ই বিরক্ত করত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাবকে জানিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী তাকে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা সিসি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেছি, গাড়িটি মেইন গেট ও কাজলা গেট ও বিনোদপুর গেট দিয়ে বের হয়নি। তবে চারুকলা দিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
বাংলা বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে আসার সময় তার ‘স্বামী’এভাবে তাকে তুলে নিয়ে গেছে বিষয়টি খুব দুঃখজনক। এমন সমস্যার বিষয়টি আগে থেকে আমাদের জানানো হলে আমরা তার সিকিউরিটির ব্যবস্থা করতাম। তার ‘স্বামী’যে তুলে নিয়ে গেছে, এটা আমাদের কয়েকজন ছাত্রীও দেখেছে। দ্রুত তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে এখনো ওই ছাত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমরা সব জায়গায় মেসেজ দিয়েছি, খোঁজ চলছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
