সৌদি আরবে সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। কথিত দুর্নীতির অভিযোগে আটক রাজপরিবারের সদস্য ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের তারা বলেছেন, সরকারকে নগদ অর্থ দিয়ে তারা মুক্তি পেতে পারেন। অর্থাৎ টাকা জমা দাও, মুক্ত হয়ে বাড়ি চলে যাও।
জানাগেছে, আটক ব্যক্তিদের ৭০ ভাগের কাছেই এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আটক কয়েকজন এ প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন।
আটক ব্যক্তিরা সরকারের এ প্রস্তাবে রাজি হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়বে কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলার। এরই মধ্যে কেউ কেউ এ প্রক্রিয়ায় মুক্তিও পেয়েছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
দুর্নীতি দমন অভিযান শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে দেশজুড়ে হাজারখানেক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হুমকিও আলোচনায় এসেছে।
সৌদি অ্যাটনি জেনারেল জানিয়েছেন, তিনি অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার অঙ্কের অর্থ নিয়ে তদন্ত করছেন। সৌদি রাজপরিবার থেকে ২০১ জনকে আটকের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদেরকে আটক কওে বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে রাখা হয়েছে। রিয়াদেও রিজ কার্লটন হোটেলে বেশি সংখ্যক রাজবন্দী অবস্থান করছেন। আটককৃতদের মধ্যে প্রিন্স, মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা রয়েছেন।
আটক ব্যক্তিদের তালিকায় রাজপরিবারের সদস্য এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী আল-ওয়ালিদ বিন তালাল এবং তার কন্যা প্রিন্সেস রিম বিন তালালের নামও রয়েছে।
আটককৃতদের ব্যাপক মারধর ও নির্যাতনের ফলে অন্তত ১৭ জনকে হাসপাতালে নেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে যুবরাজের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ, যিনি গৃহবন্দি হয়ে আছেন, তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে সুলতান বিন আবদুল আজিজেরও। তার ছেলেদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের পথে যাদেরই অন্তরায় বলে মনে করছেন তাদেরই তিনি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন বা সরিয়ে দিচ্ছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এখানে আরও স্বচ্ছতা বা স্বাধীনতার বুলি আওড়ানো অবান্তর।
ইত্তেফাক/রেজা
