উত্তর কোরীয় সেনার অন্ত্রে ‘বিশালাকৃতি কৃমি’

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:০৭
দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে আসার সময় উত্তর কোরিয়ার যে সেনাকে গুলি করা হয়েছিল, তার অন্ত্রে প্রচুর পরিমাণে কৃমি বাস করছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। দেশত্যাগী ঐ সেনা সোমবার সেনামুক্ত এলাকা দিয়ে সীমান্ত পার হবার সময় উত্তর কোরিয়ার সীমান্তরক্ষীরা তার ওপর বেশ কয়েকবার গুলি চালায়। 
 
চিকিৎকরা বলছেন, ঐ সেনা গুলির আঘাত থেকে এখন আশঙ্কামুক্ত, তবে তার শরীরে প্রচুর সংখ্যায় কৃমি পাওয়া গেছে। কৃমিগুলো তার ক্ষতে সংক্রমণ তৈরি করছে এবং যার থেকে তার অবস্থা খারাপ হচ্ছে। তার চিকিৎক বলেছেন, আমার বিশ বছরের ডাক্তারি জীবনে এধরনের কৃমির সংক্রমণ আমি কখনও দেখিনি। দক্ষিণ কোরীয় চিকিৎসক লী কুক জং সাংবাদিকদের বলেছেন, রোগীর অন্ত্র থেকে সবচেয়ে বড় যে কৃমিটি বার করা হয়েছে তার দৈর্ঘ্য ১১ ইঞ্চি বা ২৭ সেন্টিমিটার। 
IMG0
উত্তর কোরিয়ায় ক্ষেতে এখনও সার হিসাবে ব্যবহার করা হয় মানুষের মল। মল যদি অপরিশোধিত হয় এবং মলের সার দিয়ে উৎপাদিত শাকসবজি যদি না রান্না করে খাওয়া হয়, তাহলে কৃমি ওই ব্যক্তির মুখ ও অন্ত্রে ঢুকে সেখানে বাসা বাধে। ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরীয় এই সৈন্য খাবার থেকেই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। সংক্রমিত খাবারের মাধ্যমে যেসব পরজীবী মানুষের শরীরের ঢোকে সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয় কৃমি।
IMG1
আর এটিকে নিভৃতচারী কমিউনিস্ট দেশটির স্বাস্থ্যগত মানের খারাপ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘উত্তর কোরিয়া দরিদ্র দেশ এবং যে কোনো দরিদ্র দেশের মত সেখানেও স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে’ বলছেন সোওলের কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্ড্রেই লানকফ। ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া উত্তর কোরীয় রোগীদের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার মানুষের মধ্যে ক্রনিক হেপাটাইটিস বি, ক্রনিক হেপাটাইটিস সি, যক্ষ্মা এবং বিভিন্ন ধরনের কৃমির সংক্রমণ দক্ষিণ কোরীয়দের থেকে অনেক বেশি। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সেতু