ববিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য আটক

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ২০:১৬
 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীসহ মোট ৬জনকে শনিবার আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে “জ্যামার” অকার্যকর করার সরঞ্জামসহ প্রশ্ন ফাঁসের বেশ কিছু ইলেকট্রিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
 
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের মধ্যে একজন ঢাবির প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সাথে জড়িত হিসেবে সিআইডির তালিকাভুক্ত। শনিবার সকাল ৭টায় নগরীর আরশেদ আলী কনট্রাক্টর গলির “নাহার ম্যানসনে” ববির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মুয়ীদুর রহমান বাকীর ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ঢাবির ভূতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মারুফ হোসাইন, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র আলমগীর হোসেন শাহিন, গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মাহামুদুল হাসান আবিদ, পটুয়াখালী গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাব্বির আহমেদ প্রীতম এবং ঢাকার মোহাম্মদপুর ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রাকিব আকনকে আটক করে পুলিশ। 
 
তাদের কাছ থেকে ৫টি ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ব্লু-টুথ, একটি হেডফোন, ৫টি এটিএম কার্ড ডিভাইস এবং ১১টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পরীক্ষার হলে প্রথমবারের মতো জ্যামার মেশিন স্থাপন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ আরও জানায়, এই জ্যামার মেশিনকে অকার্যকর করে হলে থাকা পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর সরবরাহ করার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছেন আটককৃতরা।
 
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএমপি কমিশনার এসএম রুহুল আমিন জানান, শনিবার ববির “ক” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় উত্তর সরবরাহ করার চেষ্টা করছিলেন আটককৃতরা। আটককৃতদের মধ্যে আলমগীর হোসেন শাহিন নিজেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে দাবি করেছেন। এদের মধ্যে মারুফ হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির তালিকাভুক্ত।
 
পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকৃতরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি