গোটা যুক্তরাষ্ট্র এখন উ. কোরিয়ার নাগালে!

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৭, ০০:১০

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ফের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল বুধবার সকালে এই ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করার পর পিয়ং ইয়ং ঘোষণা দিয়েছে, এখন গোটা যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগালে চলে এসেছে। কারণ ‘সর্বোচ্চ ক্ষমতার’ এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যেকোন স্থানে আঘাত করতে সক্ষম। গতকালের পরীক্ষার পর উ. কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঢালাও করে ‘বিশেষ বুলেটিন’ হিসেবে তা প্রচার করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আঘাত হেনেছে। এটি ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে ৫৩ মিনিটে ৯৬০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে। তবে এটি যে উচ্চতায় ওঠার সক্ষমতা অর্জন করেছে তাতে ১৩ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাত্ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটির আওতায় পড়ে। চলতি বছর এই নিয়ে উত্তর কোরিয়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করল।

এদিকে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ এই উেক্ষপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উ. কোরিয়া দাবি করেছে, তারা যে নতুন ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালিয়েছে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডের যেকোন বিন্দুতে আঘাত হানতে সক্ষম। গতকাল হোয়াসং-১৫ নামের যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তারা চালিয়েছে তা গত জুলাই মাসে উিক্ষপ্ত আইসিবিএম-এর চেয়ে বহুগুণে উন্নত। তবে নিরপেক্ষভাবে তাদের এই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায় নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার আইসিবিএম-এর সফল উেক্ষপণের ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ হয়ে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় আনবে।

এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের ঘটনাকে ‘অসহনীয়’ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অ্যাবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান করেছেন। উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণান্ত্র পরীক্ষা চালানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অ্যাবে ও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে সম্মত হন। তারা পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির প্রধান মিত্র চীনের প্রতি আহ্বান জানান।

অ্যাবে বলেন, ‘আমরা কখনোই উত্তর কোরিয়ার উসকানিমূলক আচরণকে ছাড় দেব না।’ তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়ার ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করবে। এদিকে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নর্থ আমেরিকান এরোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড এ ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী যে এই ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর আমেরিকা, আমাদের ভূখন্ড বা আমাদের মিত্রদের জন্য কোন ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারবে না।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটারেস উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণান্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের শর্তের সুস্পষ্ট লংঘন।’

চীনের ‘গভীর উদ্বেগ’:এই ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের ঘটনায় বুধবার চীন ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটি এই পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, বেইজিংয়ের প্রস্তাব হলো উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের বিনিময়ে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া বাতিল করা আর তা হবে চলমান উত্তেজনা নিরসনের সর্বোত্তম উপায়। তবে ওয়াশিংটন চীনের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

গেং বলেন, বেইজিং উত্তর কোরিয়াকে জাতিসংঘের শর্তাবলী মেনে চলার জন্য ‘জোরালোভাবে অনুরোধ’ করছে।

ইত্তেফাক/নূহু