ভিয়েতনামে কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৪২
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে থাকার সময় আর্থিক অনিয়ম করেছিলেন, এমন সন্দেহে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক এক পলিটব্যুরো সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভিয়েতনামের পুলিশ। শুক্রবার ৫৬ বছর বয়সী ধিন লা থাং-কে গ্রেপ্তার করা হয়।  
 
পলিটব্যুরো কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নীতি নির্ধারণী পরিষদ। থাং কয়েক দশকের মধ্যে বিচারের মুখোমুখি হওয়া দেশটির প্রথম কোনো সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য। ‘রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতি লংঘন করে বড় ধরণের ক্ষতি করেছেন’ এমন অভিযোগে পুলিশ থাংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও বিচারিক পরোয়ানা জারি করে বলে ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। থাংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোভিয়েতনামের চেয়ারম্যান থাকাকালীন হওয়া দুটি অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত করছে পুলিশ। ওই অনিয়মের কারণে স্থানীয় ওশান ব্যাংকের বিনিয়োগ এবং পেট্রোভিয়েতনাম জয়েন্ট স্টক কর্পোরেশন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়ে থাং এর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
গত আগস্টে জার্মানিতে আশ্রয় চাওয়ার পর পেট্রোভিয়েতনামের সাবেক চেয়ারম্যান ট্রিন জুয়ান থানকে বার্লিন থেকে অপহরণে ভিয়েতনামী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর দেশটিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা অভিযান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসে। ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি আগামী মাস থেকে থানের বিচার শুরু করবে বলে জানিয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন সমালোচকরা। দলের ক্ষমতাকাঠামো নিয়ে কোন্দলে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানো নগুয়েন তান দাং-এর ঘনিষ্ঠরাই দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও ধারণা তাদের। পেট্রোভিয়েতনামের আর্থিক ক্ষতির জন্য দায়ী করে থাংকে পলিটব্যুরো থেকে সরিয়ে দেয় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি, তার কাছ থেকে হো চি মিন সিটির পার্টিপ্রধানের পদও কেড়ে নেওয়া হয়।
 
একদলীয় শাসনব্যবস্থায় দেশ চললেও ভিয়েতনামে সাবেক পলিটব্যুরো সদস্যদের বিচারের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৭৯ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য হোয়াং ভ্যান হোয়ানকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল। দেশটিতে চলা সাম্প্রতিক অভিযানে পেট্রোভিয়েতনামের বেশ কয়েকজন সাবেক চেয়ারম্যানের বিচার চলছে।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির