বিপুল বিত্তবিভবের মধ্যে জন্ম হয়েছিল ব্রিটিশ কবি এডওয়ার্ড জেমসের। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই বাবার মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকারসূত্রে আট হাজার একর জমির মালিক বনে যান এডওয়ার্ড। রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িতে বেড়ে উঠেছেন কিন্তু তার মনের মধ্যে খেলা করেছে অধিবাস্তববাদ।
লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে কিছুদিন রোমের দূতাবাসে শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করলেও সেখানে থিতু হতে পারেননি। প্রকৃতির নানা খামখেয়ালি চরিত্র তাকে বেশি আকর্ষণ করত। একবার মেক্সিকোতে যাওয়ার পর সেখানেই একটি শৈল্পিক মনুমেন্ট গড়ে তোলার খেয়াল তাকে পেয়ে বসে। সমুদ্রতল থেকে দুই হাজার ফুট উচ্চতার ঐ জঙ্গলে গড়ে তোলেন অনন্য সুন্দর এবং পরাবাস্তব ভাস্কর্যের এক মেলবন্ধন। রহস্যে ঘেরা এই জঙ্গলকে ভালোবেসে নাম দেন ‘লাস পোজাস’।
জঙ্গল আর স্থাপত্যের মেলবন্ধনের যে শান্তিময় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সেখানেই তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের বাকি দিনগুলো। এখানকার জলপ্রপাতে তিনি গোসল করতেন। লিখতেন কবিতা। এই জঙ্গলের জন্য পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে তিনি খুঁজে এনেছেন বিরল প্রজাতির গাছের চারা আর পশুপাখি।
মেক্সিকোর রেইনফরেস্টে ৮০ একর জমিতে রয়েছে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। জঙ্গলের মধ্যে গড়ে তুলেছেন চোখ ধাঁধানো সব ভাস্কর্য। কোনো কোনো ভাস্কর্যের উচ্চতা চারতলা ভবনের থেকেও উঁচু। এসব ভাস্কর্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যাবে না অন্য কোন ভাস্কর্যের। ১৯৪৯ সালে শুরু হয়ে এটি শেষ হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। ৩৫ বছর ধরে চলেছে এটিকে সাজানোর মহাযজ্ঞ। পুরো প্রকল্পের জন্য তার ব্যয় হয়েছিল তত্কালীন ৫০ লাখ ডলার।
বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দিতে এডয়ার্ডকে বিক্রি করতে হয়েছিল তার সারা জীবন ধরে সংগ্রহ করা নামি দামি শিল্পকর্মগুলো। লাস পোজাসের নির্মাণ কাজের শেষ দিকে মৃত্যু হয় এডয়ার্ডের। এডওয়ার্ড মারা গেলেও বেঁচে রয়েছে তার অনন্য সুন্দর অধিবাস্তববাদী শিল্পকর্মগুলো।-সিএনএন
ইত্তেফাক/নূহু
