জেলার সাটুরিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলার বাদী নিরাপত্তা চেয়ে সাটুরিয়া থানায় বৃহস্পতিবার একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এদিকে স্থানীয় গ্রাম্য সালিসে বিষয়টি আপস করার জন্য মাতব্বররা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে মীমাংসা করলে বাদীকে একটি টাকাও দেইনি। পরে মাতব্বর ও আসামিরা মিলে মামলার বাদীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাতিলাপাড়া গ্রামের তারামিয়ার ছেলে ফিরোজ এক গৃহবধূকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূ প্রকৃতির ডাকে রাতে ঘরের বাহিরে গেলে তাকে বখাটে ফিরোজের কয়েকজন বন্ধু আলামিন, বাদশা মিয়া, কাবিল মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূর মাথায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন গৃহবধূকে উদ্ধার করে সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। ঘটনার দুদিন পর গৃহবধূর স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু দমন আইনে মামলা করেন।
মামলা করার পর থেকে স্থানীয় মাতব্বর বিল্লাল হোসেন, শফি উদ্দিন, সাবচান, রজব আলী ও দুলাল মেম্বারসহ মিলে বিজ্ঞ আদালতের মামলাটি আপস মীমাংসা করার জন্য বাদীকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। মামলার বাদী তাদের ভয়ে আপস করার মত দিলে ৭০ হাজার টাকা রায় দেন ওই মাতব্বররা। মামলার আসামিরা ৭০ হাজার টাকা বাদীকে না দিয়ে মাতব্বর ও স্থানীয় মেম্বারের কাছে জমা দেন। কিন্তু মাতব্বররা সালিসের রায়ের টাকা বাদীকে না দিয়ে তারা নিজেরাই আত্মসাৎ করেন।
সালিসের বিচারক বরাইদ ইউপি সদস্য মো. দুলাল হোসেন বলেন, বাদীকে সালিসের জরিমানার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাদী একজন প্রতারক। সে গ্রামের কাউকে মানে না বলে জানায়। টাকা পাওয়ার পরও সে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে জানান।
গৃহবধূর স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে মাতব্বররা আমাকে টাকা না দিয়ে জোড় করে আপস নামায় সই স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি বিচারকদের কথামতো সই না করায় আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
সাটুরিয়া থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান বলেন, মামলাটি আদালতে হয়েছে। নারী ও শিশু দমন আইনের বিচার কোন গ্রাম্য মাতব্বর করতে পারে না বলে জানান।
ইত্তেফাক/আরকেজি
