এক পঙ্গু ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ইসরাইলের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার জায়েদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তবে ইসরাইলের দাবি, নিহত ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।
এ মাসের শুরুর দিকে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন। তার এই ঘোষণায় ফিলিস্তিনজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের দশম দিনে ১৬ ডিসেম্বর গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান আবু থুরায়েহ। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ওই দিন ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আবু থুরায়েসহ চারজন নিহত হন এবং আরো ১৫০ জন আহত হন।
দুই পা হারানো ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দেয়া বিবৃতিতে জায়েদ রাদ আল হুসেইন বলেন, আবু থুরায়েহ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জন্য হুমকি ছিলেন, তা কোনোভাবেই বলা যায় না। তিনি বলেন, আবু থুরায়েহের অক্ষমতা স্পষ্ট ছিল। যারা তাকে গুলি করেছে, তাদের সেটা না বোঝার কোনও কারণ নেই। এটা খুবই অমানবিক কাজ এবং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তবে ইসরাইল বলেছে, তারা আবু থুরায়েহকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়নি। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তারা জানে না। বিক্ষোভের সহিংসতাই তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে ধারণা তাদের। সেনাবাহিনীর দাবি, বিক্ষোভকারীরা সেনাসদস্যদের দিকে পাথর, বিস্ফোরকের পাশাপাশি টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ছুড়ে মারছিল। এ কারণে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
মৃত্যুর আগে আবু থুরায়েহ গাজা উপত্যকার ইসরাইলি সীমান্তে প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। নিহত হওয়ার দুই দিন আগে আবু থুরায়েহ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রতি একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছিলেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘জায়নবাদী দখলদার সেনাবাহিনীর প্রতি আমার বার্তা, এই ভূখণ্ড আমাদের। আমরা এর অধিকার ছেড়ে দেব না। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করতে হবে।’
২০০৮ সালের এপ্রিলে আবু থুরায়েহ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী ক্যাম্পে ছিলেন। এ সময় ইসরাইলি বিমান হামলায় তিনি দুই পা হারান এবং গুরুতর আহত হন। কিন্তু এরপরও দমে যাননি তিনি। বাড়ি থেকে হুইল চেয়ারে করে গাজা শহরে এসে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ, বিক্ষোভে যোগ দিতেন। ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার সময়ও তার হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ধরা ছিল। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সাব্বির
