ওসি'র উদ্যোগে দম্পতি ফিরে পেল বিক্রি করা নবজাতক

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:৫৬
 
খুলনার পাইকগাছা থানার ওসি'র সহায়তায় বিক্রি করা নবজাতককে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় দম্পতিকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে ব্যক্তিগতভাবে নবজাতক কেনা বাবদ ৪ হাজার ২শ' টাকা পরিশোধ করে তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওসি আমিনুল ইসলাম।
 
জানা যায়, দুটি মেয়ে সন্তানের পর গত ১২ ডিসেম্বর পরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ফারিন হসপিটালে পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দীলিপ সরকারের স্ত্রী সুভাষী সরকারের গর্ভে আবারও মেয়ে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। এর আগেও দুটি মেয়ে সন্তান থাকায় এবং সংসারের অভাব অনটনের কথা চিন্তা করে ক্লিনিকের টাকা পরিশোধ করতে পরের দিন ১৩ ডিসেম্বর দীলিপ-সুভাষী নামে এক দম্পতি নবজাতককে ৪ হাজার ২শ' টাকার বিনিময়ে পৌরসভার বাতিখালী গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতি লক্ষণ-কবিতার নিকট বিক্রি করে দেন।
 
অবশেষে নবজাতককে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নেন থানার ওসি আমিনুল ইসলাম। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ডাকেন উভয়কে। এ সময় নবজাতক সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা সুভাষী সরকার। কয়েক দিনের লালন পালনের কষ্ট ভুলতে পারেননি কবিতা রানীও। তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন। সবাইকে সান্ত্বনা দিয়ে ওসি আমিনুল ইসলাম নবজাতক বিক্রির ৪ হাজার ২শ' টাকা ব্যক্তিগতভাবে ফেরত দেন লক্ষণ দম্পতিকে। এ সময় গর্ভধারিণীর কোলে নবজাতককে তুলে দেন।
 
এ ব্যাপারে ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রত্যেকটি সন্তান তার মা-বাবার কাছে অনেক যত্নের এবং আদরের। সংখ্যা দিয়ে কেউ সন্তানকে মূল্যায়ন করে থাকে না। জানতে পারলাম সামান্য কিছু টাকার জন্য নবজাতককে বিক্রি করে দিয়ে ক্লিনিকের টাকা পরিশোধ করেছেন। পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে নবজাতককে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নেই এবং এ কাজে দুই পরিবার ওই এগিয়ে আসাই উদ্যোগটি সফল হয়েছে।
 
জেলা প্রশাসক আমিন-উল-আহসান জানান, গরীব মানুষের জন্য সরকারিভাবে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার এবং সুযোগ রয়েছে। ক্লিনিকের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সন্তান বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।
 
ইত্তেফাক/জামান