ইরানে বিক্ষোভকারীরা তাদের প্রতিবাদী কর্মসূচিগুলো ছড়িয়ে দেবার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে। সরকারি হুমকি উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা এই প্রতিবাদের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে মূলত টেলিগ্রাম এবং ইনস্টাগ্রাম এই দুটি সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। বিশেষ করে টেলিগ্রাম ইরানে খুবই জনপ্রিয়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে ১২ জন। খবর বিবিসি’র
ইরানের জনসংখ্যা ৮ কোটি এবং তার মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি টেলিগ্রামে সক্রিয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় এই সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। তারপরও গত ক’দিন ধরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শহরে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরিব বলেছে, ‘সাময়িক’ এই বিধিনিষেধ শান্তি বজায় রাখার জন্য দরকার। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নতুন এক ভাষণে বলেছেন, সরকারবিরোধী এসব বিক্ষোভ ‘কিছুই নয়’। তিনি বলেন, সমালোচনা এবং প্রতিবাদ তাদের জন্য কোনো হুমকি নয় বরং সুযোগ এবং আইনভঙ্গকারীদের মোকাবেলা করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সোমবার বিভিন্ন শহরে ১০ জন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, হামেদান প্রদেশের টুয়িসারকানে ৬ জন, ইস্পাহান প্রদেশের শাহিনসাহতে ৩ জন এবং ইজেহতে একজন নিহত হয়েছে। রবিবার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইজেহ শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। পশ্চিম ইরানের দরুদে বিক্ষোভকারীরা একটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি ছিনিয়ে নেয় এবং তারপর তা অন্য দুটি গাড়িতে আঘাত করে। এতে দু’জন নিহত হয়।এ পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানে মিডিয়ার ওপর সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিক্ষোভ ও সহিংসতার খবরগুলো মূলত বের হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়েই। বিক্ষোভকারীরা প্রধানত তরুণ এবং তারা বিশেষ করে টেলিগ্রাম ও ইনস্টাগ্রামের মত প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরোভ টুইট করেছেন, তার কোম্পানি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দিতে অস্বীকার করার পরই ইরানি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। দুরোভ টেলিগ্রামে এক পোস্ট দিয়ে জানান, তিনি বলেন, তাদের লাখ লাখ গ্রাহকের জন্য একটি নতুন শান্তিপূর্ণ চ্যানেল খোলা হয়েছে। তবে এতে ঢোকার ওপর এখন বিধিনিষেধ আছে। ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রী মোহাম্মদ-জাভেদ আজারি জাহরোমি এর আগে অভিযোগ করেন যে ‘আমাদনিউজের মতো’ চ্যানেলগুলো সশস্ত্র অভ্যুত্থান, সামাজিক অস্থিরতা ও পেট্রোল বোমা ব্যবহারের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
ইত্তেফাক/এমআর
