ইরানের পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে : বিপ্লবী গার্ড

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৫৫
ইরানের রাজধানী তেহরান ও দেশটির যেসব নগরীতে রাজপথে বিক্ষোভ হচ্ছে সেসব নগরীর পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসলামি বিপ্লব গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র রমাজান শরিফের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। শরিফ বলেন, ‘আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনেক ভালভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।’
 
আল-ময়াদীন টিভি নেটওয়ার্কের এর আগের খবরে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ইউনিট সোমবার তেহরানের আজাদি, ইংহেলাব ও ফেরদৌসি স্কয়ার দখল করে বিক্ষোভ করা ব্যক্তিদের দমন করে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১শ’ জন বিক্ষোভকারীর একটি গ্রুপকে নগরীর কেন্দ্রস্থলে জড়ো হতে দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ রাজপথে বিক্ষোভের উস্কানিদাতাদের একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
 
দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি আল-ময়াদীন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবকে দায়ী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে এক পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছে।
 
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাসাদে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও ক্রমেই তা দেশটির অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভ এখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। দেশটির সরকার দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা সহিংসতার মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল বলেছেন, জনগণের প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সহিংসতা সহ্য করা হবে না। সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির বিপ্লবী রেভ্যুলশনারি গার্ড। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও বিক্ষোভকারীদের কঠোর হস্তে দমনের হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। 
 
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলাম বিপ্লবের পর ২০০৯ সালে সে দেশে সবচেয়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়। সেসময় সরকার কঠোর হস্তে ওই বিক্ষোভ দমন করেছিল। এরপর আবারও নতুন করে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের জন্য ইরান সরকার অবশ্য বহিঃশক্তির ইন্ধনকে দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রের পতাকা ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিও পুড়িয়েছে।
 
ইত্তেফাক/কেআই