প্রেম করে বিয়ে, সম্বন্ধ করে বিয়ে, পালিয়ে বিয়ে, অসম বয়সী বিয়েসহ নানা প্রকার বিয়ে এমন নানা বিয়ের কথা শোনা গেলেও ভারতের বিহারে আরো এক ধরনের বিয়ের প্রচলন আছে। স্থানীয়ভাবে সেটাকে বলা হয় পাকাদুয়া বিয়ে।
জানা যায়, বিহারে এখনও যৌতুক প্রথার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ভালো পাত্রের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিতে গেলে যৌতুকের অঙ্ক শুনলে অনেকেই ভিরমি খাবেন। তাই যৌতুক এড়াতে গিয়ে ভালো পাত্রের খোঁজ পেলে মেয়ের অভিভাবকরা তাকে বা তার বাবা-মাকে বন্দুক দেখিয়ে বা অপহরণ করে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেন।
এক সমীক্ষায় জানা যায়, ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৪শ ৫ জন যুবককে এ ভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করানো হয়েছে। অবশ্য গত কয়েক বছরে সংখ্যাটা ৩ হাজারের আশপাশেই ঘোরাফেরা করেছে।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী বিয়ের মৌসুমে প্রতি দিন গড়ে ৯টি পাকাদুয়া বিয়ে হয় বিহার রাজ্যে। এ বছর বিয়ের মৌসুম শুরু হওয়ার মুখে। তাই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন।

সম্প্রতি বিহারে এক ইঞ্জিনিয়ারকে তুলে নিয়ে বন্দুক দেখিয়ে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বউ-সহ বাড়িতে পৌঁছে তিনি স্ত্রীকে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে গোটা ভারতে তোলপাড় হয়।
এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে কাজ করা মহেন্দ্র যাদব বলেন,‘পাকাদুয়া বিহারে নতুন কিছু নয়। পুলিশ-প্রশাসন সকলেই সব জানে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য বলছে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবকদের অপহরণের ক্ষেত্রে বিহার দেশে এক নম্বরে। ২০১৫ সালে প্রায় ১১ জনকে অপহরণ করা হয়। সংখ্যা গোটা দেশের মধ্যে ১৭ শতাংশ। এ মধ্যে বেশিরভাগই বিয়ের জন্য অপহরণ করানো হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ভালো পাত্র অপহরণ করানোর জন্য অপরাধীদের মোটা টাকা দিয়ে ভাড়া করা হয়।’ টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ইত্তেফাক/ রেজা
