যুক্তরাষ্ট্রে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:০১
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকারে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশের প্রথম প্রহরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
 
অমর একুশে পালন উপলক্ষে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, উডসাইডের গুলশান টেরেসে বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক এবং কুইন্স প্যালেসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে যৌথভাবে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন  (জেবিবিএ-এনওয়াই) এবং জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১ মিনিটে (বাংলাদেশে একুশের প্রথম প্রহর) ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সামনে দ্যাগ হ্যামারশেল্ড পার্কে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং বাঙালির চেতনা মঞ্চ অমর একুশের বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। 
 
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বিপুল প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। আরও উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, মুন্নুজান সুফিয়ান, ইসরাফিল আলম, ফখরুল ইমাম, আনোয়ারুল আবেদীন খান, জেবুন্নেছা আফরোজ ও রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ প্রমুখ। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারিরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
 
শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আরো শ্রদ্ধা জানায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র পেশাজীবি সংগঠন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্র, সিলেট সদর সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং উপস্থিত প্রবাসী বাঙালিরা।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুককলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের বিভিন্ন শহীদ মিনারে ফুল দেয় যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব (এবিপিসি), নিউইয়র্ক প্রেসক্লাব, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পার্টি, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম সমিতি, বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন, জামালপুর সমিতি, শেরপুর সমিতি, ময়মনসিংহ এব্রড, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশন, বরিশাল সমিতি ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতি।
 
জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে কর্মসূচির সমন্বয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ। তাকে সহযোগিতা করেছেন জ্যাকসন হাইটসের ব্যবসায়ীরা।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ও ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার অ্যাভিনিউতে প্রবাসীদের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও আঞ্চলিক সংগঠনের উদ্যোগে শহীদ দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। 
 
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে জাতিসংঘের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনারে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ০১ মিনিট পুস্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত, ইউনেস্কো, জাতিসংঘ দপ্তর, নিউইয়র্কের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যাঙ্গনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। 
 
অন্যদিকে ফ্লোরিডায় মেট্রোপলিটন আওয়ামী লীগের ব্যানারে অঙ্গরাজ্যটির ওয়েস্ট পামবিচে ফ্লেবার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে শহীদ দিবস স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ‘বাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স’-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান ও ফোবানার চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান।
 
ইত্তেফাক/এমআই