রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
অমর একুশের কর্মসূচী শুরু হয় বুধবার ভোরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে। রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্টদূত ড. এস এম সাইফুল হক এবং দূতাবাসের কর্মর্কতা-কর্মচারীবৃন্দের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়।
সন্ধ্যায় দূতাবাসে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ড. এস এম সাইফুল হক বলেন, ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনের প্রথম সোপান। তিনি ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। এছাড়া আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্তির পেছনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে এসেছে অমৃত স্বাধীনতা। একুশ বাঙালির চেতনার প্রতীক। মহান ভাষা শহীদের স্মরণে সারাদেশে অগণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে যেখানে বাঙালি আছে সেখানেই গড়ে উঠেছে আমাদের অহঙ্কারের প্রতীক শহীদ মিনার। একুশ তাই আত্মত্যাগের অহঙ্কারে ভাস্বর মহান একটি দিন। জেগে উঠার প্রেরণা। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে আত্মোৎসর্গ করার শপথ গ্রহণের দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে পবিত্র গ্রন্থ হতে পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রদূত ড. এস এম সাইফুল হক অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাঙ্গালি, রাশিয়ান নাগরিকগণ শোভাযাত্রাসহ অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান আন্দ্রিয় দ্রং।
ইত্তেফাক/নূহু
