দুই দলেরই একাধিক প্রার্থী

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৪১

মিরপুর-কাফরুল, ভাষানটেক ও শেরেবাংলা নগর থানা (একাংশ) নিয়ে এই সংসদীয় আসন। প্রকাশ্যে কেউ প্রার্থী হিসাবে কাজ শুরু না করলেও নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা এবং দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাজ করছেন রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এই আসন থেকে টানা দু’বারের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান পরাজিত হন কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন হামিদুল্লাহ খান। ২০১৪ সালে এ আসনে কামাল আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে পরাজিত হন এখলাছউদ্দিন মোল্লা। এখলাছউদ্দিন মোল্লা ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এই দুই প্রার্থীর মধ্যে।

কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, আমি সংসদ সদস্য হওয়ার আগে এলাকাটি সন্ত্রাস, খুন-রাহাজানি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদকদ্রব্যের ঘাঁটি তথা সন্ত্রাসের জনপদ নামে খ্যাত ছিল। এখন এগুলো থেকে আমি এলাকাবাসীকে মুক্ত করেছি। নানা উন্নয়ন করেছি। নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান কামাল আহমেদ মজুমদার। মোহনা টেলিভিশনের কর্ণধার তিনি।

স্থানীয় মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগ অভিভাবকই তার সংসদীয় এলাকার। এ কারণে স্কুলের উন্নয়নের মাধ্যমেও এসব অভিভাবককে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এই আসনে মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করছেন যুবলীগ মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল। যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম জাহিদ। শোনা যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হক সাচ্চুর নামও।  ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনে আগ্রহ রয়েছে বিএনপির একাধিক নেতারও।  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের নামও ঘুরে-ফিরে আসছে। এছাড়া জোটের শরিক দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নামও শোনা যাচ্ছে।

 সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা। এবার ঢাকা-১৫ আসন থেকে তার নির্বাচন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ত্যাগী নেতা। সকলের কাছে পরিচিত। এ কারণে তাকে মনোনায়ন দিলে তিনি নির্বাচিত হতে পারবেন। দলের হাইকমান্ড থেকে তিনি এই আসনে নির্বাচন করার ইঙ্গিতও পেয়েছেন বলে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

মামুন হাসানের বাড়ি মিরপুরের মনিপুরে। সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে প্রায় শতাধিক মামলার আসামি তিনি। মামলার কারণে এখনো বাড়িতে থাকতে পারছেন না তিনি। নির্বাচনে পরিবেশ সৃষ্টি হলে তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে কাজ শুরু করবেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দলের সিনিয়র নেতৃত্বের অনুমতি নিয়েই আমি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। তবে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তার পক্ষেই তিনি কাজ করবেন বলে মামুন হাসানের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি (জাপা) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে কাজ শুরু করেছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হক ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকার উন্নয়ন কে করতে পারবেন, কে সন্ত্রাস নির্মূল করতে সমর্থ হবেন তা এলাকাবাসীর জানা। এলাকার সকলে্ই সচেতন। অসত্য তথ্য দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করা যাবে না। তাই দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেই ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন।

 

প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে

‘আওয়ামী লীগ-জাপা স্নায়ুযুদ্ধ’ শিরোনামে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইত্তেফাকে প্রকাশিত ঢাকা-৪ আসনের সংবাদের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ওই আসনেরই মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মুনির হোসেন স্বপন। প্রতিবাদে তিনি বলেন, আমি এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির (এ) নেতা সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে আমি খারাপ বলিনি এবং বলবোও না। সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার বিরুদ্ধে কোন দুর্নাম নেই বলেও তিনি জানান।

ইত্তেফাক/নূহু