মন্ট্রিয়ালে গত শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো জমজমাট ৬ষ্ঠ একুশের বইমেলা ২০১৮। কানাডা-বাংলাদেশ সলিডারিটি আয়োজিত সেন্টার উইলিয়াম হিংস্টনে দিনব্যাপী একুশের বইমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন খ্যাতিমান কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন আর বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে ছড়ালেখক লুৎফর রহমান রিটন এবং কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল।
প্রথমে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি... গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। তারপর কবি ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সেলিনা হোসেন, লুৎফর রহমান রিটন, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, মন্ট্রিয়ালস্থ অনারারী কনসাল জেনারেল ডাক্তার জামিলুর রহমান, স্থানীয় সিটি কাউন্সিলার মেরি ডেরস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বশির উদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মুহিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রশিদ খান, ড ওয়াইজুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আবু হোসেন জয়, সাংবাদিক সাদেরা সুজন, বাবলা দেব প্রমুখ।
বক্তারা প্রবাসে নতুন প্রজন্মদেরকে বাংলা চর্চা, শহীদ মিনার স্থাপন, বাংলা সংস্কৃতি বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এই কানাডা থেকেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিবসের সূচনা হয়েছিলো, সেজন্য এর রূপকারদ্বয় কানাডা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরে পর্যায়ক্রমে শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকা ও মুখে মুখে গল্প বলা প্রতিযোগিতা, অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও প্রকাশনা উৎসব, আড্ডা-আলোচনা চলতে থাকে। পাশাপাশি চলে বইমেলা।
মূল আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পর্বের পূর্বে কবি রফিক আজাদ মঞ্চে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তারপর সংবর্ধনা দেয়া হয় সদ্য স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সেলিনা হোসেনকে। সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের উপস্থাপনায় এ পর্বে আলোচনা করেন আনোয়ার হোসেন, লুৎফর রহমান রিটন, নাহার মনিকা এবং স্থানীয় সাংসদ জেরি স্কালোভোনো। সেমিনার পর্বে ‘বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক মিনি প্রবন্ধ পাঠ করেন সালমা বাণী।
সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন বাউল রেজাউল করিম, লুৎফর নাহার লতা, মৌ মধুবন্তী, শিখা আহমেদ, উর্মি বাশার প্রমুখ। এবার বইমেলা স্টলের পুরষ্কার পায় টরন্টোর এটিএন বাংলা মিউজিক। শামসাদ রানা এবং জিয়াউল হক জিয়ার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় দিনব্যাপী এই একুশের বই মেলায় প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যই প্রতিফলিত হয়।
ইত্তেফাক/এসএস
