প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) দলের শক্তিমত্তার কথা মাথায় রাখলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, লড়াইটা সহজ ছিল না। তাই, এগিয়ে থাকার পরও স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন কোচ জিনেদিন জিদান। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা, তাই স্নায়ুচাপে না ভুগে কোনো উপায়ও নেই।
ম্যাচ শেষে জয় পেয়ে তাই জিদান যেন উড়ছিলেন সপ্তম আকাশে। ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ গোপন রাখেননি জিনেদিন জিদান। তিনি বলেছেন, প্যারিসে রিয়াল যেটা পেরেছে সেটা সম্ভব হয়েছে কেবল খেলোয়াড়দের ওপর বিশ্বাস রাখার কারণেই।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কাসেমিরোর গোলে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ আট নিশ্চিত করে লস ব্লাঙ্কোসরা। প্রথম লেগে স্যান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-১ গোলে জিতেছিল মাদ্রিদ জায়ান্টরা।
পিএসজি ম্যাচের প্রথম একাদশে বেশ সাহসী পদক্ষেপ নেন জিদান। লুকাস ভাসকুয়েজ, মার্কো অ্যাসেনসিও এবং মাতেও কোভাচিচকে প্রথমেই নামিয়ে দেন তিনি। ফিট থাকার পরও গ্যারেথ বেলকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন ফরাসি কিংবদন্তি। ম্যাচ শেষে তার সিদ্ধান্তের ফলও পেয়েছেন।
মৌসুম জুড়ে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাবে পিএসজির মত দলের বিপক্ষে অনেকেই রিয়াল ওপর পুরো আস্থা রাখতে পারছিলেন না। তবে জিদান বলছেন, খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা থাকলে সব সম্ভব, ‘দিনশেষে আপনাকে খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রাখতে হবে। আর খেলোয়াড়দের ওপর বিশ্বাস রাখাই এই সাফল্যের চাবিকাঠি।’
ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা সাবেক এই কিংবদন্তি ফুটবলার শিষ্যদের অভিনন্দন জানাতে ভুল করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা সব বাধা অতিক্রম করেছি এবং কিছু অর্জন করার জন্য এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব। এই দলটা সবসময় আসলে এমনই ছিল। তারা পরিশ্রম করেছে এবং দারুণ খেলেছে। আমি শুধু খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাতে চাই।’ বিশেষ করে প্রতিপক্ষের মাঠে জয় বলেই বেশি সন্তুষ্টি ছিল জিদানের কণ্ঠে। বিশেষ করে পিএসজি যে নিজেদের মাঠে বড় কিছু করে ফেলতে সক্ষম ছিল, সেই ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন না তিনি।
জিদান বলেন, ‘এমন একটা ম্যাচ খেলার খুবই প্রয়োজন ছিল। আমরা একটা কঠিন স্টেডিয়ামে জিতেছি। বিশেষ করে পিএসজি কঠিন প্রতিপক্ষ। নিজেদের মাঠে ওরা আরো ভয়ঙ্কর। ওরা বড় কিছু করে ফেললে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। তবে, ভাগ্য ভাল যে, তেমন কিছু হয়নি। আমরা নিজেদের সেরা খেলা খেলে জয় আদায় করে নিয়েছি। তাই, ঠিক প্রথম লেগের জয়ের মতই আমি সন্তুষ্ট ও খুশি।’
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
