দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, তথ্য, শ্রম, জমি, মূলধন ও প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার কৃষি ক্ষেত্রে আশাতীত সাফল্য ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, কৃষান-কৃষানীর সম্মিলিত প্রয়াস ভান্ডারিয়াসহ দেশে কৃষি বিপ্লব সাধনে বিশাল ভূমিকা রাখতে সক্ষম। সরকার কৃষির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করায় কৃষিপ্রধান দক্ষিণাঞ্চলে তার সদ্ব্যবহার করার সুযোগ আমাদের নিতে হবে।
গতকাল শনিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মাটিভাঙ্গায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষাণ-কৃষাণীদের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের কৃষকরা খুবই পরিশ্রমী। এক দিকে যেমন তারা উদার হূদয়ের অধিকারী তেমনি অতিথিপরায়নও। তাদের হাতে সোনা ফলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি উর্বর বলে এখানে উত্পাদিত ফল-ফসল-শাক-সবজি অতি সুস্বাদুু। আমরা বিদেশে গিয়ে যার স্বাদ ও তৃপ্তি পাই না। অথচ সেসব দেশে বেশি বেশি দামে আমরা সে দেশের ফল-ফলাদি কিনে খাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশের কৃষকরা তাদের উত্পাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। এখনও মাঠে এক ফসলী জমির পরিমাণ এ অঞ্চলে বেশি। আমাদের উচিত জমিকে দোফসলী করা, শস্য বহুমুখীকরণে কৃষি বিভাগের প্রকল্পসমূহ ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা।
তাসমিমা হোসেন বলেন, আমাদের কৃষকদের শ্রমকে কাজে লাগাতে হবে। ধর্ম ও কর্মকে একত্রে জীবনে ধারণ করতে হবে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে তার একমাত্র সম্বল কম্বলখানী বিক্রি করে কুঠার কিনে কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহের জন্য আমাদের রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সা.) যে উপদেশ দিয়েছিলেন সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ যত বেশি কৃষি করবেন তত বেশি ধনী হবেন। আমাদের উর্বর মাটিতে হাল ধরে চাষ করতে হবে। কৃষি ঋণের টাকা সদ্ব্যবহার করতে হবে। ভার্মি কম্পোষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে কেঁচো সার, বায়োগ্যাস উত্পাদনসহ স্থানীয় প্রযুক্তিকে বেশি বেশি করে কাজে লাগাতে পারলে কৃষি ক্ষেত্রে আরও সাফল্য আসবে। স্বরূপকাঠির পেয়ারা, নাজিরপুর ও পাথরঘাটার আলু সংরক্ষণের অভাবে যাতে নষ্ট না হয়, দাম পড়ে না যায় তার জন্য আমাদের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভান্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা করতে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন এবং এলাকার কৃষান-কৃষানীদের সংগঠিত করে তা সফল করতে ব্যাপৃত হবেন।
সমাবেশের সম্মানিত অতিথি বেসরকারি সংগঠন ‘উইন ইন কর্পোরেট’ এর প্রধান নির্বাহী কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. কাশফিয়া আহমেদ বলেন, তথ্য প্রদান, উত্পাদন ও বিপণন সুবিধার প্রসার ঘটিয়ে তার সাথে কৃষি ঋণের যথোপযুক্ত ব্যবহার করা প্রয়োজন। চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকদের সাহায্য-সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে।
সম্মানিত অতিথি ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল আলম বলেন, কৃষককে ব্যবহার উপযোগী ঋণ দিতে হবে। কৃষকের মধ্যে অর্থনৈতিক সমতা আনতে ব্যাংকের কোন বিকল্প নাই। ভান্ডারিয়ায় ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের একটি শাখা খোলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
কৃষান-কৃষানী সমাবেশে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত মাটিভাঙ্গা গ্রামের কৃষক আবুবকর সিদ্দিকের বাড়িতে অনুর্িষ্ঠত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল। অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষক আবুবকর সিদ্দিক তার অভিজ্ঞতার আলোকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া কৃষক মোহাম্মদ আলী ও কৃষানী মাহিনুর বেগম বায়োগ্যাস ও ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির পদ্ধতি বিষয়ে কথা বলেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন আক্তার সুমী, ভান্ডারিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আযম শরীফ, ইন্দুরকানি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদীন ভুইয়া, কাউখালী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহীনুর বেগম প্রমুখ।
সমাবেশের শেষে কৃষক আবুবকর সিদ্দিককে ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি পাওয়ার টিলার হস্তান্তর করেন তাসমিমা হোসেন। এর আগে সকালে তাসমিমা হোসেন ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ভান্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে মানিক মিয়া পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
