যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ১৭ মার্চ অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিবস এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০১৮ উদযাপন করে। দুই পর্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা। বয়সভিত্তিক দুইটি বিভাগে বিভক্ত হয়ে শিশু কিশোররা ক্যানভাসে তুলির আঁচরে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু ও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ’ শীর্ষক বিষয়বস্তু ফুটিয়ে তোলে। এছাড়া, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ বিষয়বস্তুর ওপর রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে মারুফ হাসান সাকি, মৈত্রী ইলিয়াস, মর্ম ইলিয়াস, উমায়মা আহমেদ, যুবায়দা যারা, মানহা মহসীণ, মেহরাজ ফেরদৌস টোকী, সারাহ মাহমুদ, নাজিফ শাফি, নুসাইবা শাফি, লাবিবা তানাসসুম এবং আরিব সাইফুদ্দীন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমান। শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এরপর ঢাকা থেকে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান যথাক্রমে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর সাখাওয়াত হোসেন, কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান আলাউদ্দিন ভূঁইয়া এবং প্রথম সচিব, মো. শাকিল মাহমুদ।
এ সময় হাইকমিশনার উপস্থিত শিশু কিশোরদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটেন। এরপর, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন এবং কর্মের ওপর একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনায় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্য থেকে অংশগ্রহণ করেন যথাক্রমে জনাব সাইদ ইসলাম, হারুন রশিদ, কবির চৌধুরী, সিকদার মতিয়ার রহমান, অধ্যাপক ওমর সেলিম শের, মিসেস রাশেদা নেওায়াজ এবং ড. মঞ্জুর চৌধুরী। বক্তারা সকলেই বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসাবে জাতি গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে হাইকমিশনার মিজানুর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বঙ্গবন্ধুর বিরল মানবিক গুণাবলীর আলোকে শিশু কিশোরদের জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের প্রাক্কালে জাতিসংঘ কতৃ্ক বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণাকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের উপহার হিসাবে অভিহিত করেন। তিনি জাতির জনকের জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবসের আনন্দঘন মুহূর্তে সকলকে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের আলোকে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর ফারহানা আহমেদ চৌধুরী। পরে আমন্ত্রিত অথিতিগণ হাইকমিশন আয়োজিত চা চক্রে অংশ গ্রহণ করেন।
ইত্তেফাক/এমআই
